কারো মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না: প্রধানমন্ত্রী|110342|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:৫৩
কারো মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

কারো মুখাপেক্ষী হয়ে রাজনীতি করি না: প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ তাকে ভোট দিলেই তার সরকার ক্ষমতায় থাকবে, নচেৎ নয় বা বিদেশি কোনো শক্তির মদদে নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ওপর নির্ভরশীল, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে আমরা রাজনীতি করি না। কে সমর্থন করবে বা কে করবে না, বাইরের মুখাপেক্ষী হয়ে আমার রাজনীতি না।’

বুধবার বিকেলে সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর: বাসস।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমার জোর হচ্ছে আমার দেশের জনগণ। আমার জনগণের সমর্থন আছে কি না, জনগণ আমাদের চায় কি না, জনগণ আমাদের ভোট দেবে কি, দেবে না, সেটাই আমার কাছে বিচার্য বিষয়।’

এ সময় ২০০১ সালে বিএনপি বিদেশি প্রভুদের কাছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে, তাদের এই আইন নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যেসব সাংবাদিক মনে করেন তারা কোনো অন্যায় করবেন না, কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবেন না, জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই এখানে উদ্বিগ্ন তারাই বেশি হবে, যারা এতোদিন ধরে খুব তৈরি হয়ে রয়েছে যে, নির্বাচন আসলেই বা তফসিল ঘোষণা হলেই আমাদের বিরুদ্ধে তৈরি করা একের পর এক মিথ্যা খবর প্রচার করবে।

তিনি বলেন, এই আইনের একটি ধারা রয়েছে, কেউ কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বা যে পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ডিজিটাল ডিভাইস এটা প্রকাশ বা ব্যবহার করবে, তাদের সবাইকে শাাস্তি পেতে হবে। যার বিরুদ্ধে লিখবে তার যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কাকে জরিমানা করা হবে, যে বিধান বাংলাদেশের আইনে না থাকলেও ইংল্যান্ডে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছু মিডিয়ায় তার চরিত্র হননের অপচেষ্টার সমালোচনা করেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হলেও যারা সেই অপপ্রচারে যুক্ত ছিলেন তারা এখনও বহাল তবিয়তে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তিনি এখনো কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ এমনকি মামলাও করতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন।

মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে যাকে সমাজ এবং পরিবারের কাছে হেয় করা হলো তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না- এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে অনেক সাংবাদিক উদ্বিগ্ন তা না হয় বুঝলাম; কিন্তু এখানে ভুক্তোভোগীদের কি হবে, তাদের কিভাবে কনপেনসেট করবেন?

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করার আগে পৃথিবীর বিভিন্ন আইনগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছে, এটা অনলাইনে দিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনাও করা হয়েছে, এরপরেও এত উদ্বেগ কিসের, জানতে চান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কারো যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে অপরাধ করবে এরকম পরিকল্পনা না থাকে তবে, তার উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’