বিয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণে গণভোট!|110359|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:১০
বিয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণে গণভোট!
অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণে গণভোট!

প্রতীকী ছবি

একজন পুরুষ এবং একজন নারীর বিয়েই শুধু বৈধ বিয়ে- এই প্রস্তাবের ওপর হ্যাঁ-না ভোট হচ্ছে রোমানিয়ায়।শনি ও রোববার দুদিন ধরে এই গণভোটের ফলাফলে দেশটির সংবিধানে বিয়ে এবং পরিবারের সংজ্ঞা বদলে যাবে।

প্রস্তাবের পক্ষের মানুষজন বলছেন, তাদের দেশের পরিবারের ‘ঐতিহ্য’ বজায় রাখতে সংবিধানে বিয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রস্তাবের বিপক্ষের লোকজন বলছেন, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়লে রোমানিয়ায় সমলিঙ্গের দম্পতি, অবিবাহিত বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের ওপর অবিচার হবে। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বাড়বে।

রোমানিয়ায় সমলিঙ্গের নারী-পুরুষের বিয়ে বা দম্পতি হিসাবে তাদের একত্র বসবাস স্বীকৃত নয়। এই গণভোটের ফলাফলে তা বদলও হবে না। কিন্তু সংবিধানে বৈধ বিয়ে এবং পরিবারের সংজ্ঞা স্পষ্ট হবে।

রোমানিয়ার সংবিধানের ৪৮ ধারায় বলা আছে, ‘স্বেচ্ছায় দুই সঙ্গীর মধ্যে বিবাহবন্ধনই পরিবারের ভিত্তি।’ ওই দুই সঙ্গীকে অবশ্যই নারী এবং পুরুষ হতে হবে বিষয়টি ততটা স্পষ্ট নয়।

কিন্তু এখন হ্যাঁ ভোট জিতলে সংবিধানের ভাষা হবে, ‘একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে বিয়েই হবে পরিবারের ভিত্তি।’

কোয়ালিশন ফর ফ্যামিলি নামে যে সংগঠনটি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে, তার প্রেসিডেন্ট সাবেক মন্ত্রী মিহাই গিওর্গিও বলছেন, ‘বিয়ে যে শুধু একজন নারী এবং পুরুষের মধ্যেই হতে পারে, এই বিষয়টি আমরা সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাই।’

প্রস্তাবের বিরোধীরা বলছেন, পক্ষে ভোট পড়লে রোমানিয়ায় সমলিঙ্গের দম্পতি, অবিবাহিত বাবা-মা এবং তাদের সন্তানদের ওপর অবিচার হবে। তাদের নাগরিক এবং আর্থ-সামাজিক অধিকার হুমকিতে পড়বে।

অবশ্য ২০১০ সাল থেকে রোমানিয়ায় সমকামিতা আর কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু সমকামী দম্পতিদের কোনো অধিকার নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সমকামীদের প্রতি ঘৃণা, প্রকাশ্যে তাদের হেনস্থা হরহামেশাই হয়।

শুধু নারী ও পুরুষের মধ্যে বিয়েই বিয়ে বলে গণ্য হবে - এই প্রস্তাবের পেছনে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে রোমানিয়ায়। দেশটির এক কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশই নিজেদের অর্থোডক্স খ্রিস্টান হিসাবে পরিচয় দেয়। অর্থোডক্স গির্জা প্রকাশ্যে প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে।

প্রস্তাবের বিপক্ষের লোকজন মানুষজনকে এই গণভোট বয়কট করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের একটাই ভরসা - ভোটারের সংখ্যা ৩০ শতাংশের কম হলে গণভোট বৈধ হবে না।

রোমানিয়ায় মানুষজনের মধ্যে ভোট দেয়ার প্রবণতা কম। ২০১৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৩০ শতাংশেরও কম মানুষ ভোট দিয়েছিল। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রোববারের গির্জায় প্রার্থনা থেকে ফেরার পথে প্রচুর মানুষ ভোট দেবেন। ফলে, উপস্থিতির সংকট হবে না।