জয়ের সংস্কৃতি চান কোচ|110394|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৪৬
জয়ের সংস্কৃতি চান কোচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

জয়ের সংস্কৃতি চান কোচ

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পাকিস্তানি কোচ নাভিদ নেওয়াজ। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ক’দিন আগেই এশিয়া কাপে অনূর্ধ্ব-১৯ দল লিখেছে এক স্বপ্নভঙ্গের গল্প। সেমি ফাইনালে ভারতের কাছে মাত্র ২ রানের হার খুব পুড়িয়েছে। তবে এই হারে তো আর থমকে থাকা যায় না। সামনে আছে যুবা ক্রিকেটারদের আরো ব্যস্ত সূচি। তবে ১৯ দলের পাকিস্তানি কোচ নাভিদ নেওয়াজ মনে করেন এশিয়া কাপে যথেষ্ট ভালো করেছেন ছেলেরা। মঙ্গলবার মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে তার দল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরো অনেক কিছুই বললেন কোচ। চোখ রেখেছেন ২০২০ বিশ্বকাপেও। সেই সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশ ‘দেশ রূপান্তর’ পাঠকদের জন্য।

এশিয়া কাপের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজ (৫ ওয়ানডে, ২ ফোর ডে ম্যাচ) থেকেই এই দলের শেখার শুরু?

আসলে শেখার শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকেই। আপনি যদি টুর্নামেন্টে ফিরে তাকান, এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই ১০জনের অভিষেক করিয়েছি, ১১ জনের মধ্যে। সেখান থেকেই আমাদের শুরু। আর আমরা ভাল করেছি, এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল খেলেছি, খুবই ক্লোজ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে হেরেছি।

এই শ্রীলঙ্কা সফরও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শ্রীলঙ্কা সফরের শুরুতে দুটি অঘোষিত টেস্ট ম্যাচ খেলব, এরপর পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ। এই ম্যাচ গুলো স্কোয়াডের তরুন ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবে।

এমন সিরিজে ফলাফলের চেয়ে কী ছেলেদের স্কিল, টেম্পারমেন্টে বেশি জোর দেয়া হয়?

দেখুন দিন শেষে বোর্ড চাইবে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার তৈরি করতে। প্লেয়ারদের গড়ে তুলে ভবিষ্যতে পাইপলাইন সমৃদ্ধ করা, এটাই বিসিবির মেইন অ্যাজেন্ডা। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, ফলাফল, জয় এবং জয়ের সংস্কৃতি ক্রিকেটার গড়ে তোলার জন্য ভাল। আপনি যদি জয়ের মধ্যে থাকেন, তাহলে আপনি ভাল ক্রিকেটার পাবেন। সুতরাং ফলাফলটাও গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, বড় দৃষ্টিকোণে জাতীয় দলের জন্য প্লেয়ার তৈরি করা আসল লক্ষ্য।

এই দল নিয়ে বড় লক্ষ্য কী?

আমরা বিশ্বকাপ খেলব, দক্ষিণ আফ্রিকায় (২০২০)। আমাদের অনেকগুলো সিরিজ ঠিক করা আছে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আগামী গ্রীষ্মে (আগস্ট) আমরা ইংল্যান্ডে খেলব। বিশ্বকাপের আগে হয়তো নিউজিল্যান্ডের খেলব। এর আগে আমরা দুইটি হোম সিরিজও খেলব। ইতিহাস বলছে, যখনই আমরা দেশের বাইরে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি না। কারণ একটাই, কন্ডিশনের ভিন্নতা। আমাদের মূল লক্ষ্য এই সমস্যার সমাধান করা। যখন আমরা দলটাকে ঠিক মত গুছিয়ে নিতে পারব, এরপর আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনের সাথে যতটা সম্ভব প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করব। আমরা চাইব কন্ডিশনকে অতীতের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভাল ভাবে বুঝতে, এটা শুধু ব্যাট ও বলের খেলা নয়, মানসিক ভাবে কিভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, নতুন দেশে গিয়ে কিভাবে প্রস্তুত হচ্ছে, ভিন্ন কন্ডিশনে কিভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, এইসব দেখতে চাই। এটা আমার লক্ষ্যগুলোর একটি, কিভাবে তাঁরা বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলছে।

ব্যাটিং নিয়ে সমস্যাটা কোথায়?

এই মুহূর্তে আমাদের ২৩ জনের একটা স্কোয়াড রয়েছে। নির্বাচকদের প্রস্তাব হল, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকে সুযোগ দিয়ে দেখতে, কে কেমন করছে এবং কে কার থেকে ভাল। ধীরে ধীরে এটা করা হচ্ছে, প্লেয়াররা যেন ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পায়। কারণ দেখা যায় কেউ এক দুই ম্যাচ খেলেছে। আমাদের যথেষ্ট সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে নিজেদের খেলাটা বুঝতে দেয়ার সময় দিতে হবে। একই সাথে যথেষ্ট ক্রিকেটারকে সুযোগ দিতে হবে, যেন আমরা বিশ্বকাপের ৬ মাসের আগেই সেরা ১৫ জনের স্কোয়াড দাঁড় করাতে পারি।

লঙ্গার ভার্শনের ক্রিকেট নেই, ইয়ুথ লেভেলে, কাজটা এদের জন্য কী কঠিন?

হ্যাঁ, এটা একটু কঠিন, দ্রুত চার দিনের ম্যাচের মানসিকায় প্রবেশ করা। তাঁরা এশিয়া কাপ শেষ করেছে ৮ তারিখ। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই এখন চার দিনের খেলায় মানিয়ে নিতে হচ্ছে। আমরা অনুশীলন ম্যাচ আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ঠিক মত হচ্ছে না। কিন্তু এটা কোন অভিযোগ না। ক্রিকেটারদের জন্য মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা মূল হাতিয়ার হতে হয়। এই ছেলেরা সেটা শিখছে। আপনাকে ভিন্ন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলতে হবে। আপনি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলবেন, আপনাকে মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে। এই স্কিলটা এই ছেলেদের শেখাতে চাইছি। যখন তাঁরা মানসিকভাবে মানিয়ে নিতে সক্ষম, তখন এটা খুব বেশি কঠিন হয় না।