জিতলে স্বাভাবিক, হারলে...|110428|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:০৪
জিতলে স্বাভাবিক, হারলে...
ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিতলে স্বাভাবিক, হারলে...

সৌম্য সরকারের দল প্র্যাকটিস ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে তো উড়িয়েই দিলো। এখন সেই জিম্বাবুয়ে হচ্ছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দলের মুখোমুখি। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২১ তারিখ শুরু। আর ম্যাচের আগের দিন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বলে দিলেন, এশিয়া কাপে প্রত্যেক ম্যাচে যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল এই সিরিজেও তাদের সামনে তেমন চ্যালেঞ্জ। কারণও পরিষ্কার। মাশরাফীর ভাষায়, ‘হয়তো জিতলে সবাই বলবে, এটাই হওয়ার কথা ছিল, হারলে কিন্তু ভিন্ন কথা হবে- এটাই স্বাভাবিক।’

শনিবার মিরপুরে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির সেই শঙ্কা ও সম্ভাবনার কথাগুলো তুলে দেয়া হলো ‘দেশ রূপান্তর’ পাঠকদের জন্য।

অনেক দিন পর হোম সিরিজ, সাকিব-তামিমবিহীন দলের কাছে প্রত্যাশা...

অবশ্যই, অনেক দিন পর হোমে খেলতে নামছি। অবশ্যই সবাই আত্মবিশ্বাসী। সাকিব-তামিম থাকবে না- এটা আগে থেকেই সবাই জানে। সেভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিয়েছে, সেরা পারফর্মেন্স দেয়ার জন্য যা যা দরকার করেছেন। কাল (রোববার) খেলা, সবাই যেটা চাচ্ছে, সেটা যেন করতে পারে।

সিরিজের চ্যালেঞ্জ...

চ্যালেঞ্জটা প্রতি ম্যাচে যেটা থাকে সেটাই। সবার প্রত্যাশা- আমরা জিতব এবং জেতার আশাই করছে সবাই। সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, অন্য দলের সাথে যেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে খেলেছি, গত এশিয়া কাপে যেভাবে খেলেছি, সেটাই থাকবে। আর ওদের প্রায় সব সিনিয়র প্লেয়াররা কামব্যাক করেছে। আর জিম্বাবুয়ে দলের নিজেদের মাটির বাইরে সবচেয়ে ভালো রেকর্ড বাংলাদেশেই। সুতরাং আমাদের ১০০ ভাগ দিয়েই খেলতে হবে। হয়তো জিতলে সবাই বলবে, এটাই হওয়ার কথা ছিল, হারলে কিন্তু ভিন্ন কথা হবে- এটাই স্বাভাবিক।

কম্বিনেশন কেমন হবে...

এশিয়া কাপে যেটা হয়েছে, দলের ওপর দিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা গিয়েছে। এক এক ম্যাচে এক একজন করে অসুস্থ হচ্ছিল। দুজন তো টিম থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল, এটাও আপনারা জানেন। ইনজুরির দিক থেকে একটা জায়গা নিয়ে চিন্তা আছে। এছাড়া চেষ্টা থাকবে, সেরা দলটাই গড়া। আর যে কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই, কিছু নতুন প্লেয়ার দলে নেয়া হয়েছে সামনে বিশ্বকাপকে চিন্তা করে। তাদের দেখে নেয়ার এটাই সুযোগ। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। একই সাথে ম্যাচ জেতাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়া কাপের টানটান ক্রিকেটের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ। এমন সিরিজে দলকে উৎসাহিত করার ফর্মুলা কী...

এশিয়া কাপে ওদের দুইজনকে (সাকিব-তামিম) ছাড়া যেভাবে যেই ধরনের ক্রিকেট খেলে এসেছি, এরপর এই ধরনের সিরিজ খেললে এবং খারাপ হলে অনেক কথা ওঠে। ব্যাক অব দ্য মাইন্ডে কিন্তু এই একটা কথাই চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু আমার মতে, ওই জায়গাটায় কাজ করা প্রয়োজন। জিম্বাবুয়ের কাছে এমন না যে আমরা কখনো হারিনি বা হারতে পারব না; এমন কিছু না। ওদের যেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে, এখানে একজন প্লেয়ার যদি সেঞ্চুরি করে সেটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একশ’ হিসেবেই গণ্য হবে, কেউ যদি পাঁচ উইকেট পায় তাহলে পাঁচ উইকেটই গণ্য করা হবে। এইগুলো যেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলি না কেন, এইগুলো করা কিন্তু কঠিন। প্লেয়ারকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে বুস্ট আপ করা জরুরি। আর আমার কথা যদি বলেন, আমি বলবো- আমাদের জন্য এই সিরিজটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের আগে এমন ৪টি সিরিজ আছে খেলার মত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রস্তুত হওয়ার জন্য। আর আমদের জন্যও ভালো হয়েছে। ওরা ওদের সেরা দলটা পাঠিয়েছে।

কেমন উইকেটের প্রত্যাশা...

মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা খুবই কঠিন, আমরা সবাই জানি। মিরপুরের উইকেট ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন হবে। তবে প্রত্যাশা তো অবশ্যই করছি, সাধারণত ২৫০-৬০ রান হলে ম্যাচ ভালো হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে স্লো বা টার্ন হবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভালো উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভালো উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা একটু কঠিন।

পেসারদের প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য কী স্পিনে জিম্বাবুয়েকে ঘায়েল করার প্রচলিত পরিকল্পনা থেকে বের করবে...

বাংলাদেশ দলকে শেষ তিন-চার বছর অবশ্যই কাছে থেকে দেখেছেন। আমরা ৯৯% সময় তিনজন ফাস্ট বোলারকে ব্যাকআপ করেছি, যে কোনো অবস্থায় ও যেকোনো উইকেটে। আমরা পেস বোলিংকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছি। আর আমাদের পেস বোলিং বিভাগ ভালো করছেও। খারাপও করেছে, কিন্তু ভালোর সংখ্যাটা বেশি এবং ম্যাচ উইনিং পারফর্মেন্স অনেক আছে। আমরা অবশ্যই ওই জায়গাতেই আছি। আমরা যতদূর সম্ভব, এটা ব্যাকআপ করেই যাব। একই সাথে উপমহাদেশ ও মিরপুরের উইকেটে স্পিনের বড় ভূমিকা থাকে। আমরা স্পিন দিয়ে তাদেরকে এর আগে অনেক সময় অলআউট করেছি। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে এবং থাকবে। একই সাথে আমরা পেস বোলারদের ফ্লাট উইকেট বলেন, সিমিং উইকেট বলেন, সব জায়গায় আমরা ব্যাকআপ দিয়েছি। সেটা দিয়ে যেতে চাই।