ঘুমিয়েই উপার্জন!|110430|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:২৯
ঘুমিয়েই উপার্জন!
শাহনেওয়াজ খান

ঘুমিয়েই উপার্জন!

প্রতীকী ছবি

অফিসে কাজ করলে যেমন বেতন পাবেন, তেমন বাসায় ফিরে ঘুমালেও মিলবে অর্থ! অবাক হচ্ছেন? জাপানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমন সুবিধাই দিচ্ছে কর্মীদের। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কর্মীদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অভিনব এই উদ্যোগের পর প্রতিষ্ঠানটির আয়ও বেড়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

ফুজি রোকি নামে এক সংস্থার করা জরিপে উঠে আসে, জাপানে ২০ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে অন্তত ৯২ শতাংশ পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন না। গবেষকরা বলছেন, অধিক কর্মচাপ ও কম ঘুমানোর ফলে অনেক জাপানির কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অবস্থার উত্তরণে এক অভিনব পদ্ধতি চালু করেছে ক্রেজি ইনকর্পোরেশন নামে জাপানি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। বিয়ের অনুষ্ঠানের কাজ করা প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের মধ্যে যারা সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন ছয় ঘণ্টা বা এর বেশি সময় ধরে ঘুমান তারা পয়েন্ট লাভ করেন। ওই পয়েন্টের বিনিময়ে তারা প্রতিষ্ঠানটির ক্যাফেটোরিয়া থেকে খাবার খেতে পারেন। অবশ্য বছরে একজন সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার ইয়েন (৫৭০ ইউএস ডলার) এর বেশি খরচ করতে পারবেন না। বাকি পয়েন্ট একটি অ্যাপের মাধ্যমে জমা থাকবে।

ক্রেজি ইনকর্পোরেশনের কর্ণধার কাজুহিকো মারিয়ামা জানান, এই পদ্ধতি চালুর পর প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আগের চেয়ে সুখী অনুভব করছেন। যা তাদের কর্মচাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। অফিসে তাদের পারফরম্যান্স আগের চেয়ে ভালো। মারিয়ামা বলেন, ‘আপনাকে অবশ্যই কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। নয়তো দেশ দুর্বল হয়ে যাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ক্রমান্বয়ে লাখো কর্মীর কাছে পৌঁছাতে চাই। আমি এমন কাজ করতে চাই, যা এখনো অন্যদের কাছে উদ্ভট মনে হয়।’

জাপানে সম্প্রতি এ ধরনের পদ্ধতি চালু হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালেই তা চালু করেছে। ইতিবাচক ফল পাওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে।

গবেষকরা বলছেন, ভালো ঘুমের ফলে ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স বাড়ার উদাহরণ রয়েছে। এমনকি এটা কোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। ২০০৯ সালে র‌্যান্ড কর্পোরেশনের করা একটি জরিপে বলা হয়, কর্মীদের অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৪১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে যা দেশটির জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। জাপানের ক্ষেত্রে বাৎসরিক এই ক্ষতির পরিমাণ ১৩৮ বিলিয়ন ডলার। যা দেশটির জিডিপির ২ দশমিক ৯২ শতাংশ।