কানের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা|110435|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:১৭
কানের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
শাহনেওয়াজ খান

কানের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

কানে কম শোনার চিকিৎসায় যন্ত্রই শেষ ভরসা। তবে শিগগিরই হয়ত এ অবস্থার পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক এই আশার কথাই শোনাচ্ছেন। তারা জানান, কর্ণের ভাগের (ককলিয়া) ইন্দ্রিয় কোষগুলো পুনরায় জন্মানো সম্ভব হলে মানুষ তার শ্রবণশক্তি ফিরে পাবে। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইন্দ্রিয় কোষ পুনর্জন্মানোর ক্ষেত্রে সফলতা লাভের দাবিও করেছেন তারা।

বেশ কয়েক বছর ধরেই ওই গবেষক দল পাখি, ব্যঙ, মাছসহ অন্যান্য প্রাণীর ওপর গবেষণা চালান। তারা দেখতে পান, অনেক প্রাণীই শ্রবণশক্তি হারোনোর পর কানের অন্তর্ভাগের ইন্দ্রিয় কোষ পুনর্জন্মানোর মাধ্যমে তা ফিরে পায়। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ও গবেষণাকর্মের সহ-লেখক জিংগুয়ান ঝ্যাং বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ককলিয়া পুনর্জন্মের অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। আমরাই (মানুষ) একমাত্র মেরুদণ্ডি প্রাণী যাদের এই ক্ষমতা নেই।’

গবেষক দলের প্রধান প্যাট্রিসিয়া হোয়াইট জানান, তারা ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পাখির ইন্দ্রিয় কোষে ইজিএফ (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর) চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। এই কোষগুলো শ্রবণশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোষগুলো প্রচুর সংখ্যায় পুনর্জন্ম ও বেড়ে ওঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। অন্যান্য স্তন্যপায়ীর প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে বলেও জানান রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার দেল মন্তে ইনস্টিটিউট ফর নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক প্যাট্রিসিয়া।

তিনি বলেন, ‘ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, জীবনভর ককলিয়ায় ইজিএফ কোষগুলো কর্মক্ষম থাকছে, তবে পুনর্জন্ম ঘটাচ্ছে না। সম্ভবত স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনের ক্ষেত্রে ইজিএফ পরিবারের কোষগুলো ইন্দ্রিয় কোষের সংকেত পাওয়া ও পুনর্জন্ম বন্ধ- উভয় ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখে। আমরা এ বিষয়টিকে সামনে রেখে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ইজিএফ পরিবারের কোষগুলোকে ইন্দ্রিয় কোষের পুনর্জন্ম এবং তাদের স্নায়ুকোষের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়।’

নতুন গবেষণায় হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধীনস্ত ম্যাসাচুসেটস ইয়ার অ্যান্ড আই ইনফার্মারি বিভাগের গবেষকরাও যুক্ত ছিলেন। তারা জানান, ইন্দ্রিয় কোষের পুনর্জন্মের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ইজিএফ পরিবারের ইআরবিবি-২ কোষকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তারা এই কোষটিকে সচল করার উপায়ও খুঁজে পেয়েছেন। শিগগিরই মানবদেহে এর পরীক্ষা চালানো হবে। গবেষকদের ধারণা, এক্ষেত্রে তারা সফল ধাপের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন।