অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব!|110528|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:২০
অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব!
অনলাইন ডেস্ক

অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্ব!

এক বছর ধরে অক্টোপাস ছিল ক্রেইগ ফস্টারের ডুবসাঁতারের সঙ্গী। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রতলে দীর্ঘদিন সাঁতরানোর চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রেইগ ফস্টারের। এ ডুবুরি ও চলচ্চিত্র নির্মাতার বন্ধুত্ব হয়েছে এক অক্টোপাসের সঙ্গে। প্রায় এক বছর আটপেয়ে প্রাণীটি ছিল তার ডুবসাঁতারের সঙ্গী। গভীর সমুদ্রে বাস করা অক্টোপাসের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন ফস্টার। সবমিলিয়ে আট বছরের ডুবুরিজীবন নিয়ে রস ফ্রাইলিঙ্কের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি লিখেছেন বই। এনিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

‘পানির নিচে ট্র্যাকিংয়ের আনন্দ ও কৌশল’ নামের এই বইয়ে উঠে এসেছে সমুদ্রতলের অন্য এক জগৎ। অক্টোপাসের সঙ্গে বন্ধুত্বই শুধু নয়, আছে রোমাঞ্চকর, গা ছমছম অনুভূতির গল্প। গভীর নীল পনির নিচে বিশালদেহী হাঙরের পাশাপাশি সাঁতার, নখহীন ভোঁদড়ের মুখোমুখি কিংবা হাতে রকফিশের স্পর্শ- আরও সব শ্বাসরুদ্ধকর স্মৃতি। ফস্টার ও রস কেপটাউনের বরফগলা জলের সমুদ্রে নেমেছেন সাঁতারের পোশাক ও সরঞ্জামাদি ছাড়া। এর মধ্যে কেপ উপদ্বীপের আটলান্টিক অংশে অক্টোপাসের সঙ্গে ফস্টারের দিনগুলো সবচেয়ে উজ্জ্বল।

তার অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, অক্টোপাস নানা চরিত্রের হয়ে থাকে। তাদের কেউ সাহসী, কেউ লাজুক। ফস্টারের বন্ধুটি ছিল মাঝামাঝি। সাহসী এ ডুবুরি বলেন, আশ্চর্য প্রাণীটির সঙ্গে একটি বছর কাটানো পরম সৌভাগ্যের। নারী এ অক্টোপাসটি আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেছে। সঙ্গে নিয়ে গেছে শিকার অভিযানে, আমরা সামনে প্রকাশ করেছে নিজের অজানা জগৎ।

অমেরুদণ্ডী প্রাণীটির আস্তানা ছিল সমুদ্রের তলদেশে একটি গর্ত, যা নিজেই খুঁড়েছে। এটি ৫০ প্রজাতির বেশি প্রাণী শিকার করে। গলদা চিংড়ি ও কাঁকড়ার খোসার কথা উল্লেখ করে ফস্টার বলেন, অক্টোপাসটির অনুমতি পেলেই কেবল তার আস্তানায় যাওয়া যায়। সেখানে পড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর হাড়, যেগুলো তার পেটে গেছে। সত্যি বলতে কি- তার চারপাশের জগৎ বেশ বিচিত্র ও রহস্যময়।

সমুদ্রজীবনের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে ফস্টার এক বছর প্রতিদিনই পানিতে নেমেছেন বলে জানান। এছাড়া আবিষ্কার করেছেন চিংড়ির আটটি নতুন প্রজাতি। এর মধ্যে একটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে তার স্মারক হিসেবে ‘হেটেরোমাইসিস ফস্টারি’।

পানির নিচে ট্র্যাকিংয়ের কৌশল রপ্ত করার পাশাপাশি ক্রেইগ ফস্টার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মরুভূমিতেও। আফ্রিকার কয়েকটি দেশের আদিবাসীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন কালাহারি মরুভূমিতে। বর্তমানে তিনি বিশ্বের সেরা ট্র্যাকারদের একজন। পাশাপাশি খ্যাতি অর্জন করেছেন প্রাকৃতিক ইতিহাসের চলচ্চিত্রকার হিসেবে; ঝুলিতে পুরেছেন কয়েকটি পুরস্কার।