এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে ২ মুসলিম নারী|110536|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:৩৭
এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে ২ মুসলিম নারী
নিজস্ব প্রতিবেদক

এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে ২ মুসলিম নারী

রশিদা তাইব (বাঁয়ে) ও ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম নারী হিসেবে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলেন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান রাশিদা তাইব ও সোমালি-আমেরিকান ইলহান ওমর। দুজনই ডেমোক্রেট থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে প্রায় আট বছর পর প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ডেমোক্রেটরা। তবে সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে সিএনএন ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে রাশিদা মিশিগান রাজ্যের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলা থেকে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে ইলহান ওমর জিতেছেন মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল জেলায়। এই পদে আগে ছিলেন প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য কিথ এলিসন। তিনি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ছিলেন না ৬ নভেম্বরের ভোটে।

ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান রাশিদার বয়স ৪২। তিনি ডেট্রয়েটে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে মিশিগান আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। রাশিদা ছিলেন আইনসভার প্রথম মুসলিম নারী সদস্য। 

এবারের নির্বাচনে তার প্রচারণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ন্যুনতম ১৫ ডলার মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো কল্যাণমূলক কার্যক্রমে কাটছাঁটের বিরোধিতা এবং বড় প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স রিলিফ সুবিধা বন্ধ করা।

অন্যদিকে সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসেন ইলহান ওমর। তিনিও রাশিদার মতো একই ধরনের বিষয়কে প্রচারণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এর মধ্যে আছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও অবৈতনিক কলেজ। তিনি জানান, দাদার সাথে স্থানীয় ডেমোক্রেটিক ফার্মার লেবার পার্টির ককাসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।

এমন এক সময় দুই মুসলিম নারীর বিজয়ের ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও অভিবাসনবিরোধী প্রচার-প্রচারণা দিন দিনই বাড়ছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) জানিয়েছে, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে মুসলিম বিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ ২১ শতাংশ বেড়েছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশ হওয়া এ জরিপে নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশন ও আমেরিকান মুসলিম ইনস্টিটিউট জানায়, প্রতি পাঁচ আমেরিকানের দুইজন মনে করেন দেশটির মূল্যবোধের সঙ্গে ইসলাম সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একই অসংখ্য আমেরিকান বিশ্বাস করেন নাগরিক হিসেবে মুসলিমরা অন্যদের মতো দেশপ্রেমিক নয়।

এছাড়া মুসলিম সিভিল রাইটস গ্রুপগুলোর মতে, মুসলিমবিরোধী অনেক ভাষ্যই আসে মিডিয়া ও রাজনীতির ময়দান থেকে। রিপাবলিকানরা ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করেন বলেও জানান গবেষকরা। মুসলিম অ্যাডভোকেটদের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ৮০টি উদাহরণ দেওয়া হয় যেখানে প্রার্থীরা মুসলিমবিরোধী বাগাড়ম্বর করছে।