বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন|110633|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:০০
বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নয়াপল্টন

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার দুপুরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: রুবেল রশীদ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার দুপুরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দলীয় বা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা নিয়ে যে কোনো মিছিল-শোডাউন বন্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলার পরদিন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো।

এ ঘটনাকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘বানচালের চক্রান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে পরস্পরকে দায়ী করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নয়াপল্টনে পুলিশ আগ বাড়িয়ে কিছু করেনি। যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে নাশকতা করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনাকে সরকারের ‘চক্রান্ত’ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

বুধবার ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় সংঘর্ষ চলার পর ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। সংঘর্ষের সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় যানজট দেখা দেয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: রুবেল রশীদ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা ১টার দিকে একটি মিছিল বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আসতে চাইলে এই সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। এতে একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে।

একপর্যায়ে পুলিশ কিছুটা দূরে সরে গিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে অবস্থান নেয়। তখন নয়াপল্টনের সড়কে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়। এসময় পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সময় অনেকে আশ্রয়ের আশায় বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে যান। পরে বিএনপি অফিসের সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে ঘিরে এই সংঘর্ষের জন্য বিএনপি এবং পুলিশ পরস্পরকে দায়ী করেছে। ছবি: রুবেল রশীদ

সংঘর্ষের পর বিএনপি কার্যালয় থেকে নেমে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি মনে করি, এই আক্রমণ সরকারের নির্দেশেই হয়েছে, সরকারপ্রধানের নির্দেশে হয়েছে। এই আক্রমণের বিনিময়ে আমরা শান্তি নষ্ট করব না। আমি বিনা উসকানিতে পুলিশের এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি, ধিক্কার জানাচ্ছি।’ রিজভীর দাবি, পুলিশের হামলায় তাদের অন্তত ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানোর পর সোমবার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে বিএনপি। ফরম বিক্রির দ্বিতীয় নয়াপল্টনে দলটির নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বুধবার মনোনয়নপত্র বিক্রির তৃতীয় দিন দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিকাল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, বিনা উসকানিতে আজ বিএনপিকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করছি। পুলিশের উপস্থিতি ছিল প্রতীকী।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় ১৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।