প্রথম রজনীতে মিশ্র অনুভূতি|110644|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৪
লোকসংগীত উৎসব ২০১৮
প্রথম রজনীতে মিশ্র অনুভূতি
মাসিদ রণ

প্রথম রজনীতে মিশ্র অনুভূতি

লোকসংগীত উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ পোল্যান্ডের দল দিকান্ডা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের লোকসংগীতকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ও তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে তিন বছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে এ ঘরানায় দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হয় আয়োজনের চতুর্থ আসর।

অবশ্য প্রথম দিন সেভাবে জমে ওঠেনি। গ্যালারিতে তেমন শ্রোতা ছিল না। নিবন্ধনের সময় কম থাকায় অনেকেই প্রবেশপত্র সংগ্রহ পারেননি বলে জানিয়েছেন। এছাড়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনেক শ্রোতা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উৎসবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আয়োজক প্রতিষ্ঠান সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী, গ্রামীণ ফোনের ডেপুটি সিইও ও বিএমও ইয়াসির আজমান এবং ঢাকা ব্যাংকের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। 

প্রথম পরিবেশনা ছিল বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসের প্রেমার নাচের দল ভাবনার। চমৎকার কোরিওগ্রাফিতে মণিপুরী ও ফোক নাচের মিশেলে লোকজ ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলে দলটি। এরপর মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের বাউল শিল্পী আব্দুল হাই দেওয়ান। প্রায় আধা ঘন্টা জনপ্রিয় কিছু লোকগান নিজের ঢঙে পরিবেশন করেন। তবে পরিবেশনায় নতুনত্ব না থাকায় দর্শক বিরক্ত হয়ে পড়েন।

এরপর মঞ্চে আসে দিকান্ডা। সাত সদস্য বিশিষ্ট পোলান্ডের এই দলের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে জিপসি আমেজে প্রেম ও হাস্যরসের চিরন্তন যুগলবন্ধন। ভিন্ন স্বাদের এই সংগীত শ্রোতাদের বিরক্তি অনেকটাই কাটাতে সক্ষম হয়। তবে পরিবেশনার শেষের দিকে প্রধান নারী ভোকালের দেহভঙ্গিমা উৎসবের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেমানান লেগেছে।

দিকান্দার পর মঞ্চে আসেন ভারতের সাত্যকি ব্যানার্জি। একলা নিতাই, সুন্দর গৌরাঙ্গ রায়, মাঝি পাল তুলে দে, হেইয়ো হো, বাঙালি করেছ ভগবান গানে তিনি দর্শককে সেভাবে আপ্লুত করতে পারেনি। বাংলাদেশে গান পরিবেশন করতে পেরে তিনি ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কণ্ঠের ম্লান তেজ ও একঘেঁয়ে পরিবেশনার জন্য দর্শক মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। ওই সময় অনেকে ভেন্যু ত্যাগ করে।

যারা ধৈর্য্য ধরে বসে ছিলেন তার ফল পেয়েছেন। সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল ভারতের জনপ্রিয় সুফি গানের দল ওয়াডলি ব্রাদার্সের। পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত দুই ভাই পূর্ণচাঁদ ওয়াডলি ও পেয়ারেলাল ওয়াডলিকে নিয়ে দলটি গঠিত হলেও ছোট ভাই পেয়ারেলাল ওয়াডলি চলতি বছরের মার্চ মাসে মারা যান। এ আসরে ওস্তাদ পূর্ণচন্দ্রের সঙ্গে গান করেন তার ছেলে লখিন্দর ওয়াডলি। তাদের পরিবেশনা ছিল দেখার মতো। আলাপ দিয়ে শুরু। এরপর বাপ-ছেলের যুগলবন্দিতে শোনা যায় তেরা নাম, তেরা ইশক মে চায়া, মে তো পিয়া সে ন্যায়না প্রভৃতি গান। সায়েরি, কণ্ঠ ও সুফি মিউজিকের মূর্ছনায় দর্শককে আবিষ্ট করে রাখেন দুই ভাই। সবমিলিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম রজনী।

শুক্রবার যারা মঞ্চ মাতাবেন

দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশের মমতাজ বেগম। দুই দশকের সংগীতজীবনে ৭০০টির বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সব শ্রেণীর শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয় তিনি।

রঙিন ফতুয়া ও লুঙ্গি পরে অভিনব সব পরিবেশনা করে থাকে ভারতের লোকসংগীত ঘরানার জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দ্য রঘু দীক্ষিত প্রজেক্ট’। আধুনিক সংগীতের সঙ্গে ভারতের লোকজ সুরের মিশেল তাদের গানকে দেয় ভিন্নমাত্রা। বিশেষ করে কান্নাড়া কবিতার রেশ থাকে তাদের গানে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক দল ‘লস টেক্সম্যানিয়াকস’। ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা ম্যাক্স বাকা বিশ্বের অন্যতম সেক্সতো বাদক হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৭ সালে দলটির যাত্রা শুরু। তাদের মূল প্রেরণা কনজুন্তো তেহানো সংগীত হলেও রয়েছে রক অ্যান্ড রোল ও জ্যাজের প্রভাব। ২০১০ সালে দলটি সংগীতে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পায়।

বাংলাদেশের ফোক-ফিউশন ব্যান্ড ‘স্বরব্যাঞ্জো’। ২০১৪ সালে রাজশাহীতে এই দলের যাত্রা শুরু। তাদের রয়েছে ‘গান-বাজনা’ ও ‘হাওয়ার চিঠি’ নামে দুটি অ্যালবাম।

বাহরাইনের প্রগ্রেসিভ ফিউশন ব্যান্ড ‘মাজাজ’। প্রথমদিকে লাইভ পারফরম্যান্সে দর্শকের মন জয় করে। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় তাদের প্রথম সিঙ্গেল। স্টুডিও রেকর্ড ‘রিহলা’ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়। বিভিন্ন যন্ত্রের মিশেলে ফোক প্রগ্রেসিভ সংগীত তাদের দিয়েছে ভিন্নতা।