বিড়ালের ৬ হাজার বছরের পুরনো মমি|110669|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৪
বিড়ালের ৬ হাজার বছরের পুরনো মমি
অনলাইন ডেস্ক

বিড়ালের ৬ হাজার বছরের পুরনো মমি

পাথরের কফিন থেকে বিড়ালের ৬ হাজার বছরের পুরনো মমির সন্ধান। ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় মানুষের কাছে পোষাপ্রাণী হিসেবে বিড়ালের কদর ছিল অন্যরকম। ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কারের কারণেই হোক বিড়ালের প্রতি ছিল তাদের ভালোবাসা। তা প্রমাণিত হলো আরও একবার। সম্প্রতি কায়রো শহরের কাছেই পুরনো সমাধিস্থল খুঁড়ে বিড়ালের বেশকিছু মমি ও ভাস্কর্য পাওয়া গেছে।

মিশরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিছু দিন আগে জানায়, কায়রোতে একটি পিরামিড কমপ্লেক্সের কাছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল পাথরের কিছু কফিন থেকে কয়েক ডজন বিড়ালের মমির সন্ধান পান। সেইসঙ্গে কাঠের তৈরি বিড়ালের ১০০টি ভাস্কর্যও উদ্ধার করেন।

বিবিসি জানায়, ছয় হাজার বছরেরও বেশি পুরনো প্রাচীন মিশরীয় নগরীতে মেম্ফিস যুগের একটি সমাধিস্থল খুঁড়ে এসব মূল্যবান পুরাকীর্তির সন্ধান পাওয়া যায়।

প্রত্নতাত্ত্বিক ও কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালিমা ইকরাম বলেন, “প্রাচীন মিশরীয়রা অনেক সময় তাদের পোষাপ্রাণীর মমি করে রেখে দিতেন, সেইসঙ্গে ভাস্কর্যও বানাতেন। মালিকের মৃত্যুর পর এসব মমি ও ভাস্কর্যসহ তাকে সমাধিস্থ করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, পরবর্তীকালে এসব পোষাপ্রাণী তাদের সঙ্গী হবে।”

তার মতে, প্রাচীনকালে প্রাণী মমিকরণকে অনেকটা চার্চে আলো জ্বালিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনার মতোই দেখা হতো।

দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকস’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা ওয়াজিরির মতে, শুধু বিড়ালই নয়, পুরনো ওই সমাধিস্থলে সিংহ, গরু ও বাজপাখি চিত্রিত স্বর্ণাবৃত্তির কিছু ভাস্কর্যও পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানে কাঠের তৈরি সাপ, কুমিরের ভাস্কর্যও পাওয়া গেছে।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, “একসঙ্গে এত প্রাণীর মমি ও ভাস্কর্য পাওয়ার ঘটনা বিরল। কয়েকদিন আগে আমরা কিছু পুরনো কফিনের সন্ধান পাই। সেখানেই এসব প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী ছিল। কায়রোর মধ্যে এরকম মূল্যবান পুরাকীর্তি পাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।”