‘ঐশ্বরিক ক্ষমতাবান’ যাজকের ধর্ষণের দায়ে সাজা|110713|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:০০
‘ঐশ্বরিক ক্ষমতাবান’ যাজকের ধর্ষণের দায়ে সাজা
অনলাইন ডেস্ক

‘ঐশ্বরিক ক্ষমতাবান’ যাজকের ধর্ষণের দায়ে সাজা

যাজক লি নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করতেন বলে অভিযোগ ধর্ষিতাদের। ছবি: বিবিসি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্ষণের দায়ে শীর্ষ এক খ্রিস্টান যাজককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। লি ঝে-রক নামের এই ব্যক্তি নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করতেন বলে জানান ধর্ষিতারা।

৭৫ বছর বয়সী লি সিউলের অন্যতম মেগা-চার্চ মামিন সেন্ট্রাল চার্চের যাজক। প্রটেস্ট্যান্টদের এ ধরনের গির্জায় সাপ্তাহিক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে নিয়মিত দুই হাজার বা তার চেয়ে বেশি অনুসারী জড়ো হন। এই ধর্মীয় নেতার এক লাখ ত্রিশ হাজারেরও বেশি অনুসারী আছে বলে জানাচ্ছে বিবিসি।

তবে আট নারী অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ধর্মযাজক নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।  

এক ধর্ষিতা জানান, লি নিজেরকে ‘ঐশ্বরিক শক্তিধর’ দাবি করতেন। এ কারণে তাকে ঈশ্বরতুল্য মনে করে যা বলতেন তাই অনুসরণ করতে বাধ্য হতেন অনুসারীরা।

১৯৮২ সালে মাত্র ১২ জন অনুসারী নিয়ে মামিন সেন্ট্রাল চার্চের যাত্রা শুরু করেন লি। কয়েক দশকের মধ্যে বিশাল স্থাপনা, অডিটোরিয়ামসহ মেগা-চার্চে পরিণত হয়। 

বিবিসি জানায়, চলতি বছরের শুরুতে তিন নারী অনুসারী লি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। যাজক তাদেরকে অ্যাপার্টমেন্টে ডেকে নেন ধর্ষণ করেন। 

শৈশব থেকে এই গির্জায় অবস্থানকারী এক ধর্ষিতা জানান, লি’কে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি রাজা-বাদশাহর চেয়েও বড় কিছু। তিনি ছিলেন ঈশ্বরতুল্য।

আট নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনলে চলতি বছরের মে মাসে লি’কে গ্রেফতার করা হয়। দশবারেরও বেশি ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা আদালতের কাছে প্রমাণিত হয়।

তবে লি ঝে-রক নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। বিচারক রায় পড়ার সময় এ যাজক চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন ভঙ্গ করার কারণে ওই নারীদের গির্জা থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে।