বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রত্যক্ষ তিন স্বাস্থ্যঝুঁকি|110877|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৯:২৩
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রত্যক্ষ তিন স্বাস্থ্যঝুঁকি
অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রত্যক্ষ তিন স্বাস্থ্যঝুঁকি

ক্রমাগত উষ্ণায়নের হার ঠেকানো না গেলে অচিরেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিভিন্ন বিপদ নিয়ে প্রতিনিয়ত সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। ক্রমাগত উষ্ণায়নের হার ঠেকানো না গেলে অচিরেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে পৃথিবী। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এখনই তিন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে বিশ্ববাসী। হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে তা তুলে ধরা হলো-

বাড়বে হিটস্ট্রোক

সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা থাকে ৩৬ দশমিক ৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে (৯৮ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। মানবদেহে বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ায় এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। সূক্ষ্মভাবে তাপ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বহির্গমন ক্রিয়া চালিত হয়। এর ওপর পরিবেশেরও প্রভাব রয়েছে। মানবদেহে তাপ বহির্গমন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে হিটস্ট্রোক হয়। অভ্যন্তরীণ এই তাপমাত্রার অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করে।

দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পৌঁছালে তাপ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ভেঙে পড়ে। এর ফলে স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রণালীতে জটিলতার সৃষ্টি হয়। হৃৎপিণ্ড ও শ্বাস-প্রশ্বাস প্রণালী বাধাগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায়। এটি মানুষকে জটিল রোগ বা মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে।

তাপদাহে বেশি ভোগেন অপেক্ষাকৃত বয়স্করা। তাদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক প্রণালী দুর্বল হয়ে পড়ে। ওষুধের কার্যকারিতা এবং গতি কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা কমে যায়।

রোগের মাত্রা বৃদ্ধি

তাপদাহ রুগ্নদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যাদের হাঁপানি বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ আছে এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা বা অক্সিজেন নিতে হয় তাদের ভুগতে হয় বেশি। ৬৫ বা এর চেয়ে বেশি বয়সীরা কম বয়সীদের চেয়ে ১২-২৩ গুণ বেশি হিটস্ট্রোকে ভুগেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা তাদের অনেক কম।

উষ্ণ দিনগুলোতে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পার্থক্য (যেমন ১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উঠা) বৃদ্ধি শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কিন্তু কম তাপমাত্রার ক্ষেত্রে (যেমন ৯০ থেকে ৯১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উঠা) তেমন প্রভাব ফেলে না।

দক্ষিণাঞ্চলে উষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করায় সেখানকার লোকজন তাপমাত্রার এই উঠানামার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য, দুর্বল অবকাঠামো ও কম স্বাস্থ্যসুবিধা প্রাপ্তিরও ভূমিকা রয়েছে।

বাইরের কাজে বেশি বিপদ

স্বল্প মাত্রার তাপদাহ রাতে খানিকটা ঠান্ডা হয়ে আসে। এই সময়ে মানবদেহে খুব একটা সমস্যা দেখা দেয় না। তাপদাহের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহে তা প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিশেষত, কায়িক শ্রমে নিয়োজিতদের (যেমন- নির্মাণশ্রমিক, কৃষক) স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তা হুমকিস্বরূপ।

তাপদাহের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে স্বীকার করা হয়। এই সংখ্যা অবশ্য তাপদাহের কারণে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে না। উদাহরণস্বরূপ গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে তাপদাহের কারণে শত শত মানুষ মারা যায়। কিন্তু তাদের মৃত্যুর সনদে বিষয়টি উঠে আসেনি। ডাক্তারি রিপোর্টে অনেকের ক্ষেত্রেই হৃৎক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর পেছনে যে তাপদাহের ভূমিকা রয়েছে তা উঠে আসেনি। ইউরোপে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়লে রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকে যা পরবর্তীতে তাপদাহ সৃষ্টি করে।