‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় হতে হবে’|110994|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:১২
‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় হতে হবে’
কক্সবাজার প্রতিনিধি

‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় হতে হবে’

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। ছবি: দেশ রূপান্তর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “মিয়ানমারকে রাখাইনে নিশ্চিতভাবে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ফিরিয়ে দিতে হবে রোহিঙ্গাদের অধিকার।”

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয় উল্লেখ করে মিলার বলেন, “কীভাবে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায় এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা করবে। শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারের জনগণের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

বৈঠক শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মিলার। এসময় তিনি রোহিঙ্গা বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চান।

মঙ্গলবার তিন দিনের সফর শেষে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সকাল সাড়ে ৯টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। বৃহস্পতিবার বার সকালেও উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি।

এসময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত। নির্যাতিত রোহিঙ্গা, ক্যাম্পে দায়িত্বরত সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

আর্ল রবার্ট মিলার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কর্মদিবস হিসেবে কক্সবাজার সফর করেছেন।

গত বছরের অগাস্ট মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গদের ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা এবং তালিকা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি হয়নি।