আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৬ কারখানা ছুটি ঘোষণা|111163|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:১২
আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৬ কারখানা ছুটি ঘোষণা
সাভার প্রতিনিধি

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ১৬ কারখানা ছুটি ঘোষণা

সোমবার সাভারের আশুলিয়ায় মজুরি নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ছবি: দেশ রূপান্তর

সাভারের আশুলিয়ায় গেজেট অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬ কারখনায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

একপর্যায়ে বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমে আসলে পুলিশ তাদেরকে বাঁধা প্রদান করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গতকাল সোমবার দুপুরে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় এ শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

শিল্প পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, সোমবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো কারখানায় প্রবেশের পর সরকার ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতী শুরু করে শ্রমিকরা। এসময় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা করে।

তবে তাতে রাজি না হয়ে দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া মোল্লাবাড়ি এলাকার এ.আর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড, চারাবাগ এলাকার মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেড, লিলি এ্যাপারেলস, টেক্স টাউন গার্মেন্টস, এফজিএস ডেনিম গার্মেন্টসহ প্রায় ১৬ কারখানার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসে।

শ্রমিকরা কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর চালালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপসহ লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ শ্রমিক আহত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, মজুরি বোর্ড ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। শ্রমিকরা না বুঝে কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। দুপর ১২টার দিকে কাঠগড়া এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কয়েকটি কারখানা এবং যানবাহন ভাংচুরের চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১৮ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। 

তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বাড়ি চলে যায়। কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।