রাজহাঁসে ভাগ্যবদল|111334|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
রাজহাঁসে ভাগ্যবদল

রাজহাঁসে ভাগ্যবদল

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব

উঠোন ভর্তি সাদা-কালো রাজহাঁস। কোনোটার গায়ে আবার লাল, সবুজ রং মাখানো। কোনো ভয়-ডরের তোয়াক্কা না করে হাঁসগুলোর পেছন পেছন ছুটে বেড়াচ্ছে বাড়ির শিশুরা। বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলে হাওরে বা পুকুরেও দেখা মিলবে দলবেঁধে সাঁতরে বেড়ানো ছোট-বড় রাজহাঁস। ভৈরব উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই এই মনোরম দৃশ্য চোখে পড়বে।

রাজহাঁস পালন করে হাওর অঞ্চলের অনেকেই ভাগ্যবদল করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রাজহঁাঁস। উপজেলার আগানগর, শ্রীনগর, শিমুলকান্দি আর সাদেকপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোর প্রায় প্রতিটি ঘরেই পালন করা হয় রাজহাঁস। নদীনালা, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিলের প্রাকৃতিক খাদ্যে বেড়ে উঠলেও ডিম দেওয়ার সময় হলে বাড়ির পথ ধরে এরা। হাঁস, হাঁসের বাচ্চা আর ডিম বিক্রি করে সচ্ছলতা ফিরেছে এখানকার প্রায় প্রতিটি ঘরে।

খুব সকালে হাঁসগুলোকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। আশপাশের নদী, খাল-বিল, পুকুর, ডোবার জলে ভেসে বেড়ায় খাদ্যের সন্ধানে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সারি ধরে ঠিক পথে যার যার ঘরে ফিরে যায়। তবে ডিম দিতে হলে যেকোনো সময় ফিরে আসে বাড়িতে। নির্ধারিত স্থানে ডিম দিয়ে আবার জলে ফিরে যায় সঙ্গীদের কাছে।

রাজহাঁস পালনের মুনাফায় সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে বলে জানান উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ছাগাইয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন, নূরুন্নাহার। শিমুলকান্দির পাঁচঘরহাটি গ্রামের নাসির উদ্দিন, শিউলী, রূপা আর কুলসুমের মতো অনেকের ভাগ্যবদল হয়েছে রাজহাঁস পালন করে। তারা জানান, রাজহাঁস পালনে খুব একটা খরচ করতে হয় না তাঁদের। বাসি-পান্তা ভাত, চালের খুদ-কুঁড়া হাঁসের খাবার। সকালে সেগুলো খেয়ে পানিতে চলে যায়, ফিরে সন্ধ্যায়। সন্ধ্যায় খোঁয়াড়ে ঢোকার আগে আর একবার খাবার দিতে হয় হাঁসগুলোকে।

প্রতিটি রাজহাঁস বছরে দুই থেকে তিন দফা ডিম দেয়। হাঁস বয়সভেদে ডিম দেয় আট থেকে ১২টি। প্রতিটি রাজহাঁসের বাচ্চা বিক্রি হয় দুইশ থেকে আড়াইশ টাকায়। আর একটি বড় হাঁসের স্থানীয় মূল্য ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। তাছাড়া রাজহাঁসের বাজারদর এবং ভোক্তা চাহিদাও খুব ভালো।

অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে রাজহাঁস পালনের পরিসর বাড়ছে। ভৈরবের হাওর এলাকায় রাজহাঁস পালনকে উৎসাহিত করতে পরামর্শসহ সব রকমের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা।

ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম এই অঞ্চলে রাজহাঁস পালনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন। মুরগি বা পাতিহাঁসের চেয়ে রাজহাঁসের ডিম ও মাংস অনেক পুষ্টিকর বলে জানান তিনি।