ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির পরিদর্শন ম্যানুয়াল পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি |111340|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির পরিদর্শন ম্যানুয়াল পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির পরিদর্শন ম্যানুয়াল পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি

পার্শবর্তী দেশ ভারতে ছয়টি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি রয়েছে, যারা বিভিন্ন কোম্পানি কিংবা বন্ডের ঋণমান সনদ দেয়। বাংলাদেশে ঋণমান সনদ দেয়, এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে আটটি। দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কোম্পানির সঙ্গে আপস করে ঋণমান সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থা উত্তরণে পরিদর্শন ম্যানুয়াল তৈরির মাধ্যমে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির কার্যক্রম পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পাঁচ বছরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। 

মূলত কোনো কোম্পানির ব্যাংকঋণ পরিশোধ-সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান করা হয়। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বা ব্যাংকঋণের শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিকে ঋণমানের সনদ নিতে হয়। আবার মৌল ভিত্তির অনেক কোম্পানিও তাদের অভ্যন্তরীণ ঋণমান ও কোম্পানির অবস্থান বুঝতে ঋণমান করে থাকে। এ ছাড়া বাজারে কোনো বন্ড ছাড়া হলে বিনিয়োগকারীকে বন্ডের বিনিয়োগ নির্ভরযোগ্যতা দিতে এ রেটিং করা হয়।

দেশে যে-সংখ্যক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি গড়ে উঠেছে, তা দেশের অর্থনীতির আকার, কাজের পরিধি ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। ফলে কাজের মান ঠিক রাখতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে এক্সটারনাল ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রযোজ্য বিধিবিধানের অধিকতর প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক তদারকি জোরদার করার জন্য পরিদর্শন ম্যানুয়াল তৈরির উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

অভিযোগ উঠেছে, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অনেক সময় মৌল ভিত্তি অনুসরণ না করে কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ঋণমানে রেটিং প্রদান করে। বাজারে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এজন্য গ্রাহক বাড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আলাদা মার্কেটিং টিম রয়েছে, যারা বিভিন্ন কোম্পানিকে স্বল্প ব্যয়ে নির্দিষ্ট রেটিং প্রদানের জন্য সমঝোতা করে। বিধি অনুযায়ী রেটিং কমিটিতে দুজন সিনিয়র অ্যানালিস্ট থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা পরিপালন করছে না এজেন্সিগুলো। বহিরাগত অ্যানালিস্ট দিয়েই কাজ চালাচ্ছে।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশিসংখ্যক এজেন্সি হওয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্বল্প ফিতে ঋণমান প্রতিবেদন তৈরি করছে।

ঋণমান সনদ প্রসঙ্গে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, কিছু কোম্পানিকে ঋণমান সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেটিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠান আপস করছে। এজন্য কয়েকটি কোম্পানিকে নোটিশও করা হয়েছে। এ অবস্থায় পরিদর্শন ম্যানুয়ালটি শিগগিরই চূড়ান্ত করে রেটিং এজেন্সিগুলোকে একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা হবে।

দেশের প্রথম ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (সিআরআইএসএল) অনুমোদন দেওয়া হয় ২০০২ সালে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। ২০০৪ সালে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি) নামে আরেকটি কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর এলাহী ছাড়াও স্কয়ার, এসিআইসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে রয়েছেন। ২০১০ সালের ২২ জুন ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড ও