অধ্যাপক সনজীদা খাতুনকে নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'বোধিবৃক্ষ'|111377|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:০৭
অধ্যাপক সনজীদা খাতুনকে নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'বোধিবৃক্ষ'
নিজস্ব প্রতিবেদক

অধ্যাপক সনজীদা খাতুনকে নিয়ে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'বোধিবৃক্ষ'

সনজীদা খাতুন।

বাঙালির সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা ও বিকাশে যে ক’জন নিবেদিতপ্রাণ সারা জীবন কাজ করে চলেছেন তাদের অন্যতম সনজীদা খাতুন। সংস্কৃতির আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা। তিনি একাধারে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং শিক্ষক।

তার প্রত্যক্ষ স্পর্শে প্রাণ পেয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 'ছায়ানট', 'জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ' এবং 'কণ্ঠশীলন'। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সনজীদা খাতুনকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশিকোত্তম’ দিয়েছে। এ ছাড়া তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার’, কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইন্সটিটিউট থেকে পেয়েছেন ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি।

এভাবেই দিনে দিনে তিনি আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে হয়ে উঠেছেন মহীরুহ। তার জীবন ও কর্মের নানা বিষয় নিয়েই নির্মাতা আবীর শ্রেষ্ঠ নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'বোধিবৃক্ষ'। চলচ্চিত্রে তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে শৈশবের নানা স্মৃতি, জীবন সংগ্রাম ও শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার বিষয়। তাকে নিয়ে কথা বলেছেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ডাঃ সারোয়ার আলী, ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী, খায়রুল আনাম শাকিল এবং লাইসা আহমেদ লিসা। 

বোধিবৃক্ষ নিয়ে নির্মাতা আবীর বলেন, তার এই বয়সে আমার চেয়ে বেশি কষ্ট তাকে বোধহয় আর কেউ দেয়নি। যখন-তখন তার আস্তানায় হানা দেয়া। কখনো ছায়ানট, কখনো তার বাসা, কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বকা দিতেন, আবার রাজীও হতেন আমার প্রস্তাবে। সেই প্রশ্রয় পেয়ে একদিন বলেই ফেললাম, রমনার বটমূলে তিনি হাঁটছেন- এমন একটি দৃশ্যধারণের কথা। আপার হাটতে অনেক কষ্ট হয়, তবু একদিন সকালে তিনি আমার ইচ্ছে পূরণ করলেন। গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে করে বটমূলে এসে হাঁটলেন কিছুটা সময়। দর্শকরা এই দৃশ্যের আবহে শুনবেন আপার কণ্ঠে "আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান, বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান"। সম্পাদনার টেবিলে এই দৃশ্য যতবার দেখেছি ততবার বিস্ময়ে তাকিয়ে শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছি। তিনি সত্যিই 'বোধিবৃক্ষ'।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অর্থায়নে এবং প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনায় নির্মিত এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবের ষষ্ঠ দিনে উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।