তিনজেলায় সড়কে নিহত ৭|111391|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩৭
তিনজেলায় সড়কে নিহত ৭
অনলাইন ডেস্ক

তিনজেলায় সড়কে নিহত ৭

ছবি: দেশ রূপান্তর

চুয়াডাঙ্গা,সিলেট ও চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় পাথর বোঝাই ট্রাক চাপায় দুই ভাইসহ তিনজন, সিলেটে ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটর সাইকেল আরোহী এবং চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় লরির ধাক্কায় শ্রমিক ও অটোরিকশা থেকে পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের কুলপালা গ্রামে চুয়াডাঙ্গায় পাথরবোঝাই ট্রাকচাপায় দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়। নিহতরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের আকুল আলীর দুই ছেলে রাকিব হাসান (২২) ও সাকিব হাসান (১২) এবং সদর উপজেলার পীরপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে লিটন (৩৪)।         
  
স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক সম্প্রসারণ ও মেরামতের কাজ চলছে। গতকাল দুপুরে এ কাজে নিয়োজিত পাথরবোঝাই একটি ট্রাক মেহেরপুর থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাওয়ার সময় কুলপালা গ্রামে একটি চলন্ত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধু ও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ভাইকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আলমসাধুর চালক লিটন নিহত হন। গুরুতর আহত দুই ভাই সাকিব ও রাকিবকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা চুয়াডাঙ্গা- মেহেরপুর সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক ও আলমসাধু দুটি যানবাহনই দ্রুত বেগে চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বুধবার দিবাগত রাতে সিলেট-তামাবিল সড়কে থেমে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামের প্রয়াত শামসুল হকের ছেলে নুর উদ্দিন (৫৫) ও একই গ্রামের প্রয়াত উসাই মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান (৫০)। 

পুলিশ জানায়, দরবস্ত পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে আশেপাশের লোকজন সড়ক অবরোধ করেন এবং ওই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত দু’জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 দেশ রূপান্তর চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন একটি কারখানায় লরির ধাক্কায় এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। 
নিহত মোহাম্মদ ইসমাইল (৬০) নগরীর আকবর শাহ থানাধীন পাক্কার মাথা নাজিম মেম্বারের বাড়ির মৃত আফসান আলীর ছেলে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত বড়ুয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, দুপুরে ফ্যাক্টরি এলাকার একটি কারখানায় ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ইসমাইল। এ সময় লরির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রামে অপর ঘটনায় নগরীর চকবাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় নিহতের মা ওই অটোরিকশায় ছিলেন। নিহত পারিশ্যা আক্তার (৪) চান্দগাঁও থানার বারইপাড়া এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের মেয়ে।  

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-সহকারী পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার স্বজনদের বরাত দিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পারিশ্যাকে ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে তার মা অটোরিকশায় করে নগরীর কোতোয়ালীর মোড় থেকে বাসার দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশা চকবাজার চকভিউ সুপার মার্কেটের সামনে পৌঁছার পর অসতর্কতাবশত পারিশ্যা চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় পড়ে যায়।
তিনি আরো জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় পারিশ্যাকে বেলা সাড়ে ১১টার পর চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।