বাগেরহাটে গাড়িবহরে হামলায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ আহত ৭|111647|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:১০
বাগেরহাটে গাড়িবহরে হামলায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ আহত ৭
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে গাড়িবহরে হামলায় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীসহ আহত ৭

বাগেরহাট-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী বিএনপি নেতা এম এ সালামের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরে হামলা।

বাগেরহাট-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী বিএনপি নেতা এম এ সালামের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। হামলায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সালামসহ অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া বহরে থাকা চারটি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়।

রোববার বেলা পৌনে বারোটার দিকে চারটি মাইক্রোবাসযোগে এম এ সালামের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহর শহরের হরিণখানা এলাকার পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সালাম এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আহতরা হলেন, ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এম এ সালাম, তার দলের কর্মী মারুফ খান, জসিম, রাহুল, ‎হ্নদয়, মহসিন এবং প্রার্থীর গাড়ি চালক রণি। এরা সবাই ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী।

সালাম অভিযোগ করেন, রোববার বেলা পৌনে বারোটার দিকে চারটি মাইক্রোবাসযোগে সদর উপজেলার যাত্রাপুর এলাকায় গণসংযোগে যাচ্ছিলাম। আমার গাড়িবহর শহরের হরিণখানা এলাকার পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় আমরা দ্রুত গাড়ি টেনে ওই এলাকা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ২০/২৫ টি মোটরসাইকেল আমাদের পিছু ধাওয়া করে সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে আমার গাড়িসহ চারটি মাইক্রোবাসের কাচ ভাঙচুর করে এবং গাড়িতে থাকা আমার দলের নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এসময় আমিসহ অন্তত সাতজন কমবেশি আহত হই। আহতদের মধ্যে মারুফ খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার পর আমি ঘটনাটি পুলিশ সুপারকে অবহিত করে খুলনায় চলে এসেছি। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি তাই আপাতত নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন বলেও দাবি করেছেন ওই প্রার্থী।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর স্টিলব্রীজ এলাকায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এম এ সালামের গাড়িবহরে অজ্ঞাত পরিচয়ের কতিপয় দুর্বৃত্তের ইটপাটকেল নিক্ষেপের খবর শুনে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমরা কোন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি বা ঐক্যফ্রন্টের কাউকে দেখতে পাইনি। প্রার্থী এম এ সালাম নিজে আমাকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়েছেন তবে তিনি এখনো লিখিত কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শেখ কামরুজ্জামান টুকু সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি প্রার্থী এম এ সালাম আসন্ন নির্বাচনে পরাজয় বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন। আমার দলের কোন নেতাকর্মী ওই হামলার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করে আরও বলেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এম এ সালাম নিজেই হামলার নাটক সাজিয়েছেন কিনা তা তদন্ত করে দেখতে পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি।