আফিফ-জাকিররা কোথায়!|111667|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:৪২
আফিফ-জাকিররা কোথায়!
অনলাইন ডেস্ক

আফিফ-জাকিররা কোথায়!

ছবি: আইসিসি

এ বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে একসঙ্গে অভিষেক করানো হয় মোট ছয় ক্রিকেটারকে। এক সিরিজে ছয় ক্রিকেটারের অভিষেক নিয়ে তখন সমালোচনা হয়েছিল খুব। বছর শেষ না হতেই অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন, উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হোসেন ও অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান জাতীয় দলের আশপাশেই নেই।

১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকায় প্রথম টি-টুয়েন্টিতে জাকির হোসেন, আফিফ হোসেন, আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলামের অভিষেক হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক করানো হয় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান ও পেসার আবু জায়েদ রাহীকে।

এদের মধ্যে আবু জায়েদ রাহী অভিষেকের পর টি-টুয়েন্টি খেলেছেন আরো দুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট অভিষেকের পর খেলেছেন মোট ৩টি টেস্ট। নাজমুল ইসলাম অপু টি-টুয়েন্টিতে নিজের জায়গাটা পাকা করে ফেলেছেন বলতে হবে। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ১৩টি টি-টুয়েন্টি। সঙ্গে ৫টি ওয়ানডে ও ১টি টেস্টও খেলেছেন।

আরিফুলও দৃশ্যপটে ভালোভাবেই আছেন। এর মধ্যে ওয়ানডে ও টেস্টেও অভিষেক হয়ে গেছে এই অলরাউন্ডারের। ৬টি টি-টুয়েন্টির সঙ্গে খেলেছেন ২টি টেস্ট ও ১টি ওয়ানডে।

কিন্তু আফিফ, জাকির ও মেহেদীর একটি করে টি-টুয়েন্টি খেলেই থেমে আছে জাতীয় দলে পথচলা। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু রোববার ক্রিকইনফোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় হতাশাই প্রকাশ করেন। বলেন, ‘‘আফিফ এবং জাকিরকে নিয়ে আমাদের অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে তারা আমাদের হতাশ করেছে।’’

তিন ক্রিকেটারকে নিয়ে সত্যিই প্রত্যাশা ছিল সবার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আফিফ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনটাও দারুণ করেন। বিপিএলে টি-টুয়েন্টি অভিষেকেই ক্রিস গেইলের উইকেট সহ নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।

জাকির হোসেন ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট কিপিং করেন দারুণ। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে ছিল প্রত্যাশা।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান যার অফ স্পিনটাও কার্যকরী। ২০১৭ সালে বিপিএলে আলো কাড়েন তিনি। কিন্তু টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর তাদের পারফরম্যান্স কি বলছে?

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সম্প্রতি হতাশ করেছেন আফিফ। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৬৪ রান। চলতি মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার গড় মাত্র ১৬.৯০। ইমার্জিং কাপে দুই ম্যাচে করেছেন ২০ রান।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে জাকিরের ১৩ ম্যাচে গড় ২৮.৯২। এই মৌসুমে ৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার ফিফটি তিনটি। তরে ইমার্জিং কাপে দুই ম্যাচে তার রান মাত্র ৬৯।

মিনহাজুল এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে বলেন, ‘‘তারা তাদের দক্ষতার উন্নতি সঠিকভাবে দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি আমাদের খেলার পরিকল্পনার অংশও হতে পারেননি। আফিফ এবং জাকির ঘরোয়া ক্রিকেটে অথবা ইমার্জিং কাপে ভালো করতে পারেনি।’’

তবে এ ক্ষেত্রে মেহেদী হাসান দারুণ খেলেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ব্যাট এবং বল হাতে তিনি উজ্জ্বল। ব্যাট হাতে ৮০.৫০ গড়ে রান করেছেন। উইকেট নিয়েছেন ১৬টি।

তাকে নিয়ে নান্নু বলেন, ‘‘সে আমাদের নজরের বাইরে এমন নয়। মেহেদী হাসান মিরাজ তিন ফরম্যাটেই খেলছে। ঠিক এমন সময় নাঈম হাসান দারুণ শুরু করেছে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতেই। আমরা মিরাজের ব্যাকআপ হিসেবে নাঈমকে ভেবেছিলাম। মেহেদী আমাদের অফ স্পিনার হিসেবে পরিকল্পনায় থাকাদের একজন।’’