নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস চট্টগ্রাম প্রশাসনের|111727|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৫
নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস চট্টগ্রাম প্রশাসনের
চট্টগ্রাম ব্যুরো

নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস চট্টগ্রাম প্রশাসনের

সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রশাসন ১৬ আসনের প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেন । ছবি: দেশ রূপান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময়ে সোমবার পৃথকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন এ আশ্বাস দেন।

মতবিনিময়ে বিএনপি প্রার্থীরা শঙ্কা ও সংশয়ের কথা জানালেও উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন নিয়ে একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। মানুষের মধ্যে প্রশ্ন, ভোট দেওয়া যাবে কিনা?

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা কেন পার্টি হচ্ছেন? আপনাদের তো আমরা সম্মান করি, বিশ্বাস করি। আপনারা কেন রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবেন? দয়া করে গ্রেপ্তার অভিযানটা বন্ধ করুন’।

নির্বাচনের দিন সকালে এজেন্টদের কাছে কেন্দ্রভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স দেখানোর জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-০৯  (কোতোয়ালি) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে ভোটাররা অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপি প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতির কথা বলছেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় তো ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি দেখছি না।

তিনি বলেন, আমার এলাকায় সব প্রার্থীর পোস্টার আছে। ২০০৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গুলি করে শ্রমিক লীগের ৬ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ভয়ভীতির কথা বলে তখন আমরা তো নির্বাচন থেকে সরে যাইনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে। নারী ভোটারদের বলা হচ্ছে, ইভিএম নাকি খুব কঠিন। ইভিএমে ভোট দিলে নাকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা শুধু জিতবেন।

চট্টগ্রাম-০৯ (কোতোয়ালি) আসনের বিএনপির প্রার্থী কারাবন্দী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রতিনিধি এস এম বদরুল আনোয়ার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম’র পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে ব্যালট পেপার রাখার প্রস্তাব করেন।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিজয় দিবসের র‌্যালিতে নগরের নয়াবাজারে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাকে গুলি করার জন্য উদ্যত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মহাজোটের প্রার্থী মঈনুদ্দীন খান বাদল বলেছেন, আকারে-ইঙ্গিতে প্রশাসনকে দোষারোপ করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। আমরা যারা প্রার্থী সবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হয়। একটা নির্বাচনের জন্য তো আর আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে এইটাই প্রত্যাশা।

একই আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা চান্দগাঁওয়ের পাঁচটি ওয়ার্ডে নারকীয় তাণ্ডব চলছে। প্রতিদিন রাতে পুলিশ যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, বাড়ি-ঘরে হামলা হচ্ছে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, অতীতের ১০টি সংসদ নির্বাচনের চেয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনেক বেশি আলোচিত। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১২৬ ধারা অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছি। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারও প্রতি অনুরাগ কিংবা বিরাগ দেখাতে চাই না। নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে চাই।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান প্রার্থীদের কাছে নির্বাচনে এজেন্ট থাকার জন্য ৫ জনের নামের তালিকা জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি না করারও আশ্বাস দেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. মমিনুর রশিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি।