গাজীপুরে শিশু রাকিন হত্যায় গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার|111788|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
গাজীপুরে শিশু রাকিন হত্যায় গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরে শিশু রাকিন হত্যায় গৃহশিক্ষক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলছাত্র সাদমান ইকবাল রাকিনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে তার গৃহশিক্ষকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার রাতে শ্রীপুরের ফাউগান গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাকিনের এই দুই প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলো রাকিনের গৃহশিক্ষক পারভেজ শিকদার (১৮) ও তার এক সহযোগী (১৬)। পারভেজ ২০১৭ সালে ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে শিমুলতলী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অ্যাগ্রিকালচার ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়েছেন। পারভেজের সহযোগী ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম। তিনি বলেন, রাতে অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাকিন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অপহরণের দিন ফয়সাল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিনকে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে আটকে রাখতে না পেরে গলা টিপে হত্যা করে।’

রাকিন শ্রীপুরের প্রহ্লাদপুর এলাকার ফাউগান গ্রামের বাসিন্দা ও গাজীপুর জেলা পরিষদের কার্য সহকারী শামীম ইকবালের ছেলে। রাকিন চলতি বছর ফাউগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিল।

গত ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় শিশু সাদমান ইকবাল রাকিন (১০)। ১১ ডিসেম্বর ফাউগান গ্রামে তাদের বাড়িসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে রাকিনের লাশ পাওয়া যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা সারওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিশু রাকিনের গৃহশিক্ষক পারভেজ শিকদার। মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে সে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকিনকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। সেই মোতাবেক শিশুটিকে অপহরণের ছয় মাস আগেই শিশুটির বাবার মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে বন্ধ করে রাখে। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর বিকেলে রাকিনকে খেলার কথা বলে অপহরণের পর রাকিনের বাবার ফোন থেকে কল করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। পরে ওই ফোনকলের সূত্র ধরে আসামিদের শনাক্ত করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলন শেষে রাকিনের বাবা সৈয়দ শামীম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওইদিন আমার ছেলে আসরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করেছিল। এরপর তারা খেলার কথা বলে আমার ছেলেকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করেছে।’