‘মরে গেলেও’ অনশন ভাঙবেন না লতিফ সিদ্দিকী|111842|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:০৪
‘মরে গেলেও’ অনশন ভাঙবেন না লতিফ সিদ্দিকী
টাঙ্গাইল প্রতিবেদক

‘মরে গেলেও’ অনশন ভাঙবেন না লতিফ সিদ্দিকী

মঙ্গলবার অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: দেশ রূপান্তর

প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ সময় লতিফ সিদ্দিকী চিকিৎসকদের বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে দুর্বল, মানসিকভাবে নই। আমার দাবি মেনে নেয়া হোক, না হলে মরে গেলেও অনশন ভাঙব না’।

তার চিকিৎসায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক লতিফ সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা সিদ্দিকী জানান, মঙ্গলবার ভোরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁবুর ভেতর পানি পড়তে থাকায় আমরণ অনশনরত লতিফ সিদ্দিকীকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দায় নেয়া হয়।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে সেখানে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন খান নির্দেশনা পেয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহাকে দায়িত্ব দেন।

পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোফাজ্জল হোসেনকে প্রধান করে ৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল টেন্ট ডা. মোফাজ্জল হোসেন জানান, মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর আজ দুপুর পৌনে দুইটায় লতিফ সিদ্দিকীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। দুপুরে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তারা লতিফ সিদ্দিকীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ওষুধ দেওয়া হলেও তিনি খাচ্ছেন না। ফলে শরীর ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

লায়লা সিদ্দিকী বলেন, আজ ওনার (লতিফ সিদ্দিকীর) ৮২তম জন্মদিন, জন্মদিনেও তিনি অনশন করছেন।

তিনি জানান, ওনার হার্টে আগেই দুইটা রিং পড়ানো আছে। উচ্চ রক্তচাপসহ আরো অসুখ রয়েছে। তিনি তিন বেলা খাবারের আগে-পরে নিয়মিত ওষুধ খান। অনশন করার পর থেকে কিছুই খাচ্ছেন না।

লায়লা সিদ্দিকী আক্ষেপ করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তার গাড়িবহরে হামলা করায় তিনি ওসির অপসারণ চেয়ে তিন দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন- এটা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জার!

মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বারান্দা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে পাশের একটি খোলা টিনশেড স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল-বল্লভবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খানের কর্মী-সমর্থকরা হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে।

এতে লতিফ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত গাড়িসহ চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবাদে রোববার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে এসে তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন লতিফ সিদ্দিকী।

দাবিগুলো হচ্ছে, কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সরকার দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পর্যন্ত আর কোনো সহিংসতামূলক কার্যকলাপ করবে না মর্মে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মুচলেকা প্রদান।

অনশনের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া লিখিত ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘আমার অনশন ধর্মঘটের ১৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত, কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম একই সঙ্গে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার’।

ঘোষণায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার যদি কোন ক্ষতি হয়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে বলে ঘোষণা দিচ্ছি’।