ঢাবি অধিভুক্ত চার কলেজ বাণিজ্যের ‘৬৫ শতাংশ’ ফেল|112024|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ঢাবি অধিভুক্ত চার কলেজ বাণিজ্যের ‘৬৫ শতাংশ’ ফেল
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাবি অধিভুক্ত চার কলেজ বাণিজ্যের ‘৬৫ শতাংশ’ ফেল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত চার কলেজের পাস কোর্সের ফলে বাণিজ্য বিভাগের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে। ঢাবি কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘নিছক ভুল’ হিসেবে দেখলেও সংশ্লিষ্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা একে গাফিলতি মনে করছেন।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের পর কয়েক ধাপে সরকারি বাঙলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের পাস কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৫টি বিষয়ে পরীক্ষা হলেও কয়েকটির ফল প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নিলেও অনুপস্থিত দেখানো, ইমপ্রুভমেন্টের নম্বর যোগ না করে আগেরটা বহাল রাখা, পাস করা শিক্ষার্থীদেরও আবশ্যিক বিষয়ে ফেল দেখানো, প্রাপ্ত নম্বর যোগ-বিয়োগে ভুলসহ বিভিন্ন ধরনের অসংগতি ও ভুল চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তিন বছর মেয়াদের পাস কোর্স ছয় বছরেও শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলেও তা থাকছে ভুলে ভরা। অনেকের খাতা হারিয়ে যাওয়ায় ফলের তালিকায় তাদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। তাদের দাবি, ঢাবি কর্র্তৃপক্ষের খামভেয়ালিতে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে।

তিতুমীর কলেজের ছাত্র সোবহান গনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। (এ নিয়ে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেও তিনি আমলে নিচ্ছেন না।’

তবে এসব অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে না দেখে ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এগুলো নিছক ভুল। এতগুলো শিক্ষার্থীর রেজাল্ট প্রস্তুত করা সহজ কথা নয়। ভুল হতেই পারে, তা সংশোধন করা হবে।’

অধিভুক্ত কলেজগুলোর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ঢাবির কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার দায়ভার শিক্ষার্থীদের নিতে হচ্ছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বোঝা মনে করার কারণে পরীক্ষার তাদের প্রতিটি ফলে এমন চিত্র উঠে আসছে।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই কলেজগুলোকে ঢাবির অধিভুক্ত করার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফল নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে        কন্ট্রোলার অফিসে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। দ্রুতই সকল ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করা হবে।’