ছেলেকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে সেই ইয়েমেনি মা|112141|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:৩৭
ছেলেকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে সেই ইয়েমেনি মা
অনলাইন ডেস্ক

ছেলেকে শেষ বিদায় জানাতে যুক্তরাষ্ট্রে সেই ইয়েমেনি মা

মৃত্যুশয্যায় থাকা শিশুকে শেষবারের মতো দেখতে ইয়েমেনি মা সাইমা সুলেহকে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, একবছর ধরে ভিসা আটকে দেয়ার পর মুমূর্ষু শিশুকে দেখতে সাইমাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ভোরে মিশর থেকে রওয়ানা দিয়ে সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এ সময় আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরা তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুমূর্ষু শিশু সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে এই ইয়েমেনি নারীকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। তার পরিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দেয়া হয়। 

দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর তৃতীয় দফা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে চাদ, ইরান, উত্তর লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন ছাড়াও কোরিয়া, ভেনেজুয়েলার নাগরিকরাও এ তালিকায় আছেন।

সাইমাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অনুমতি দিতে আইনি প্রক্রিয়া চালায় আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) নামে একটি সংগঠন।  তারা জানায়, মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

সিএআইআর জানায়, সাইমার পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে বিপুল পরিমান মানুষ। ছেলের শেষ সময়ে তাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে তারা কয়েক হাজার, চিঠি, ই-মেইল পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এগিয়ে আসে কংগ্রেস সদস্যরাও।

সিএআইআর'র আইনজীবী সাদ সুয়েইলেম বলেন, “অবশেষে আমরা নিশ্চিত হতে পারলাম, ছেলের হাত ধরে এবং  চুম্বন খেয়ে তাকে বিদায় জানাতে পারবে। এই পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ছিল অভূতপূর্ব।”

বিবিসি জানায়, সাইমার দুই বছরের শিশু আব্দুল্লাহ হাসান জন্ম থেকেই মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা জানান, তার বাঁচার সম্ভাবনা নাই।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাইমার স্বামী আলী হাসান এবং সন্তান আব্দুল্লাহ দুইজনই ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ১৯৮০ সালে হাসানের পরিবার ইয়েমেন থেকে এ দেশে আসেন। কিন্তু ইয়েমেনের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাদের।

এর আগে রবিবার আলী হাসান (২২) বলেন, “ইয়েমেনের নাগরিক হওয়ায় তার স্ত্রী সাইমাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। তাকে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তা বাতিল করে দেয়।”

তিনি বলেন, “লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার আগে শেষবারের মতো আবদুল্লাহর দেখতে চায় সে। তার ইচ্ছা মৃত্যুর সময় ছেলের হাত ধরে রাখবে।”

ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে বাঁচতে গত বছর তারা কায়রোতে পালিয়ে আসেন আলী হাসানের পরিবার। তখন আবদুল্লাহর বয়স ছিল আট মাস। এরপর তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে গত তিন মাস আগে সন্তানকে নিয়ে বাবা আলী যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন।

আলী আরও জানান, “তারা আবদুল্লাহকে মিশরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসকরা অনুমতি দেননি।”