ব্রেকআপের ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন|112302|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:১৯
ব্রেকআপের ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন
অনলাইন ডেস্ক

ব্রেকআপের ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন

বিচ্ছেদ সুযোগেরও নামান্তর।

“যদি তুমি কাউকে ভালোবাস তবে মুক্তি দাও”, রবি ঠাকুরকে অনুসরণ করে একবার মুক্তি দিয়েই দেখুন। “যদি সে ফিরে আসে তবে সে তোমার”, কিছুদিন এই অপেক্ষায় থাকুন। “আর যদি ফিরে না আসে তবে সে কোনো দিন তোমার ছিল না; হবেও না”, একসময় এটা মেনে নিন। জীবন আগের থেকে সুন্দর হবে।

বিচ্ছেদ জীবনের অংশ। কথাটা বলা যত সহজ, ভুক্তভোগীর জন্য মেনে নেওয়া তত কঠিন। কিন্তু কেন মেনে নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিখ্যাত লেখক নেপলিয়ন হিল। প্রথম মাসে ১৫ লাখ কপি বিক্রি হওয়া ‘থিংক, অ্যান্ড গ্রো রিচ’ বইয়ে তিনি বলেছেন, “সমস্যা সব সময় সুযোগের ছদ্মবেশে আসে।” তার মানে বিচ্ছেদ যদি আপনার কাছে সমস্যা হয়, এটি সুযোগেরও নামান্তর। কীভাবে? এই উত্তর পাবেন এই লেখায়।

বিষাদে ভাসুন, ধ্বংসকে না বলুন:
কষ্ট পাবেন। অবশ্যই পাবেন। পেতেই হবে। তাই বলে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। কেন করবেন না, প্রথমে সেটি আপনাকে অনুধাবন করতে হবে। শুরুতে বলেছি, বিচ্ছেদ মানেই সুযোগ। হ্যাঁ। নতুন করে বাঁচার সুযোগ। যেখানে ছিলেন, সেখানে সুখ ছিল না বলেই বিচ্ছেদ হয়েছে। তাই তো? তাহলে আক্ষেপ কেন? সুখের জন্য যে বাধা ছিল, সে তো এখন নেই। আপনার জানালায় এখন সুখ ভিড় করলে কেউ বাধা হবে না। শুধু আজকের জন্য বাঁচুন। মা-বাবার জন্য বেঁচে থাকুন। বিশ্বাস রাখুন সুন্দর ভবিষ্যতে।

‘বিশ্বাস’, যা ম্যাজিকের মতো সুখ আনে
বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হলে এই ‘বিশ্বাস’ শব্দটা আপনাকে বিশ্বাস করতেই হবে। শুরুতে লেখক নেপলিয়ন হিলের কথা বলেছিলাম। সঙ্গে একটি বইয়ের নাম, ‘থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ’। এই লেখা পড়তে পড়তে যারা ভাবছেন, এটি পড়ে আমার কোনো কাজ হবে না, তাদের জন্য ‘থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ’ বইয়ের কথা একটু বিস্তারিত বলা দরকার। না হলে এই লেখা আসলেই আপনার কাজে আসবে না।

নেপলিয়ন হিল ২৫ বছর গবেষণা করে, শতাধিক সফল ব্যক্তির জীবন বিশ্লেষণ করে ওই বইটি লিখেছেন। বারাক ওবামা, বিল গেটসদের মতো ব্যক্তিরা বলেছেন, ‘আমি যদি আরও দশ বছর আগে বইটি পড়তাম, তাহলে আমার ভাগ্য আরও বদলে যেত।’ বইয়ের মূল উদ্দেশ্য, আপনাকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা। বইটি পড়তে পড়তে বারবার আপনি একটি কথা পাবেন, সেটি হল ‘বিশ্বাস’। লেখক বলছেন, ‘বিশ্বাস বাধ্য করে প্রকৃতিকে আপনার পক্ষে আনতে।’ আপনি যদি বিশ্বাস করেন আপনি একদিন সুখী হবেন, তাহলে অবশ্যই একদিন সুখী হবেন। আপনি যদি বিশ্বাস করেন, আপনি একদিন ধোনি হবেন, তাহলে অবশ্যই হবেন। হতেই হবে। লেখক তার ২৫ বছরের গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বাস জাদুর মতো কাজ করে।

এখনো যদি আপনি নিজের সুন্দর ভবিষ্যতে বিশ্বাস না করেন, তাহলে এই লেখার শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন 
যে আপনাকে বোঝে, আপনার সবটা জানে, তার সঙ্গে আলাপ করুন। চারদিকে তাকান, অন্যরা কীভাবে বেঁচে আছে সেটা দেখুন। অন্যের কষ্ট অনুভব করুন। দেখবেন নিজের কষ্ট হালকা হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই আপনি জানেন, একটি ভালো বই একশজন বন্ধুর সমান। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।

নিজেকে ফিরিয়ে নিন
একদল ব্রিটিশ গবেষক বলছেন, ছেলে আগে ছেড়ে দিলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়েটি মেনে নিতে পারে না। আবার মেয়ে আগে বিচ্ছেদের কথা বললে, ছেলেটি মানতে পারে না। অর্থাৎ যে বিচ্ছেদের শিকার হয়, তারই কষ্ট বেশি হয়। সাবেক সঙ্গীর পেছনে যত ঘুরবেন, সে আপনাকে তত কম পাত্তা দেবে। তাই নিজেকে আগে থেকেই ফিরিয়ে নিন। দেখবেন কষ্ট কম হচ্ছে।

নতুন আলোয় জীবন রাঙান
সবকিছু নতুন করে শুরু করুন। আর্থিক সমস্যা দূর করার উপায় খুঁজুন। স্পষ্ট পরিকল্পনা করুন। নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। সেগুলো নোট করুন। কীভাবে, কোন উৎস থেকে আপনার পক্ষে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব, সেগুলো নোটে স্পষ্ট করে লিখুন। কত টাকা উপার্জন করতে চান, সেটিও নোটে উল্লেখ করুন। কখনো লিখবেন না, ‘আমি অনেক টাকা উপার্জন করতে চাই।’ নির্দিষ্ট করে লিখুন ঠিক কত টাকা আপনি চান। এই নোটগুলো প্রতিদিন সকালে-বিকেলে পড়ুন। অনুভব করুন, আপনি দিনে দিনে সুখী হচ্ছেন, আপনার কাছে অর্থ আসছে। এই যে অনুভবের কথা বললাম, এটি হচ্ছে বিশ্বাস। এই অনুভূতি আনতে না পারলে আপনি কোনো দিন সুখী হবেন না। কোনো দিন অর্থের দেখা পাবেন না।

নিজেকে বিশ্বাস করুন। বিশ্বাস রাখুন। প্রতিনিয়ত সেটা অনুভব করুন। জীবনে সুখী হওয়ার সময় খুব কম। তাই এখনি নিজেকে সুখী ভাবুন। চিৎকার করে বলুন আপনি সুখী।