জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারের উপাদান পরীক্ষা করবে বিএসটিআই|112304|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৯:৩০
জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারের উপাদান পরীক্ষা করবে বিএসটিআই
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারের উপাদান পরীক্ষা করবে বিএসটিআই

ভারতে উৎপাদিত জনসন অ্যান্ড জনসনের যে বেবি পাউডার বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে, তাতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না- তা পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। শুক্রবার এ তথ্য জানায় বিএসটিআই।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের পরিচালক এস এম ইসহাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার মতো ক্ষতিকর অ্যাজবেস্টেস পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই পাউডারের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘তবে বাংলাদেশে হয়তো এ পরীক্ষাটি সম্ভব না ও হতে পারে। এ জন্য আমরা বিদেশে নমুনা পাঠাব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য’।

আর বেবি পাউডারের মান পরীক্ষার আগে এর বিক্রির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না বলে জানান ইসহাক।             

এর আগে ম্যাগি নুডলসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উচ্চমাত্রায় সিসা থাকার অভিযোগে ভারতে পণ্যটির বাজারজাতকরণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

যদিও পরবর্তীতে ভারতীয় আদালত শর্তসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশে ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশে ম্যাগি নুডলসের মান পরীক্ষা করে দেখা হয়।

এস এম ইসহাক জানান, বাংলাদেশেও ম্যাগি নুডলসের মান পরীক্ষায় ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি। এ কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গত জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের বেবি পাউডারে ক্ষতিকর অ্যাজবেস্টসের কারণে ব্যবহারকারী কিছু ভোক্তা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে  জরিমানা হিসাবে ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার দিতে বলে সেখানকার একটি আদালত।

অভিযোগকারী ২২ নারীর মধ্যে ৬ জনই ক্যানসারে ভুগে মারা যান। জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অন্তত নয় হাজার মামলা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক এই কোম্পানির বেবি সোপ, লোশন ও পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে জনপ্রিয়। অনেক বাবা-মা নিরাপদ মনে করেই তাদের সন্তানদের জন্য এসব পণ্য ব্যবহার করেন।

গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বেশ কয়েক দফা পরীক্ষায় অ্যাজবেস্টসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও তা গোপন করে বিক্রি চালিয়ে গেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতের মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেখানে জনসন অ্যান্ড জনসনের কারখানা থেকে বেবি পাউডারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠায়।

ভারতে উৎপাদিত ট্যালকম পাউডার বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপেও বিপণন করা হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসন রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনকে ‘একতরফা, মিথ্যে ও রঙ চড়ানো’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জনসন অ্যান্ড জনসেনের ট্যালকম পাউডারকে অ্যাজবেস্টসমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। ভারতে তারা সরকারের বেঁধে  দেওয়া মান অনুসরণ করেই পণ্য উৎপাদন করে।