জনসনের বেবি পাউডার পরীক্ষা করবে বিএসটিআই|112413|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
জনসনের বেবি পাউডার পরীক্ষা করবে বিএসটিআই

জনসনের বেবি পাউডার পরীক্ষা করবে বিএসটিআই

বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। রাষ্ট্রায়ত্ত মান নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিচালক এস এম ইসহাক গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারের উপাদান অ্যাজবেস্টেস পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাউডারের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পরীক্ষাটি সম্ভব না হলে বিদেশে নমুনা পাঠানো হবে। মান পরীক্ষার আগে এই পণ্যের বিক্রির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না বলে ইসহাক জানান।

এই পাউডারের অ্যাজবেস্টস থেকে ডিম্বাশয়ের ক্যনসারে আক্রান্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ২২ জন নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে গত জুলাইতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেয় আদালত।

ভুক্তভোগী এই ২২ নারীর মধ্যে ছয়জনই ক্যান্সারে মারা যান। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এ ধরনের আরো অন্তত নয় হাজার মামলা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে।

গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বেশ কয়েক দফা পরীক্ষায় অ্যাজবেস্টসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও তা গোপন করে বিক্রি চালিয়ে গেছে জনসন অ্যান্ড জনসন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতের মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেখানে জনসন অ্যান্ড জনসনের কারখানা থেকে বেবি পাউডারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠায়।

ভারতে উৎপাদিত ট্যালকম পাউডার বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপেও বিপণন করা হয়। বহুজাতিক এই কোম্পানির বেবি সোপ, লোশন, পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে জনপ্রিয়। অনেক বাবা-মা নিরাপদ মনে করেই তাদের সন্তানদের জন্য এসব পণ্য ব্যবহার করেন।

তবে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনকে জনসন অ্যান্ড জনসন ‘একতরফা, মিথ্যা ও রং চড়ানো’ বলে আখ্যায়িত করেছে। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডারকে অ্যাজবেস্টসমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। ভারতে তারা সরকারের বেঁধে দেওয়া মান অনুসরণ করেই পণ্য উৎপাদন করে।

এর আগে ম্যাগি নুডলসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উচ্চমাত্রায় সিসা থাকার অভিযোগে ভারতে পণ্যটির বাজারজাতকরণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। পরে ভারতীয় আদালত শর্তসাপেক্ষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। বাংলাদেশে ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় ম্যাগি নুডলসের মান পরীক্ষা করে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান ইসহাক।