একাট্টা আ.লীগ তৎপর বিএনপিও|112437|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
একাট্টা আ.লীগ তৎপর বিএনপিও
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

একাট্টা আ.লীগ তৎপর বিএনপিও

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনই ধরে রাখতে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের প্রার্থীরা একাট্টা হলেও সেখানে ভাগ বসাতে তৎপর বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটসহ বিভিন্ন দলের মোট ১১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখানকার নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবার মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি, জাসদ ও তরিকত ফেডারেশনকে একটি করে আসন ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপিবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই ১৬ আসনে ক্ষমতাসীনদের জিততে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। কিন্তু এবার ১৬ আসনের মধ্যে অন্তত ছয়টি ছিনিয়ে নিতে চান ধানের শীষের প্রভাবশালী প্রার্থীরা। এগুলো হলো চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, ডবলমুরিং (চট্টগ্রাম-১০) ও বন্দর (চট্টগ্রাম-১১)। তবে আসনগুলো ধরে রাখতে আওয়ামী লীগও মরিয়া।

ভোটাররা চট্টগ্রামে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজকে গুরুত্ব দিয়ে ১৬ আসনের মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন বলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বিশ্বাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামে তা বাস্তবায়ন করেছেন। এখনো অনেক প্রকল্প চলমান আছে। ভোটাররা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কাজকে প্রাধান্য দেবেন।

নওফেল চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে নৌকার প্রার্থী। এখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো না হয়ে এবার যদি ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে; তাহলে চট্টগ্রামের প্রায় সবকটি আসনে আমরা জিতব। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে প্রশাসন। বিনা কারণে গায়েবি মামলায় আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

‘তবে এলাকার ভোটার ও নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমরা নির্বাচনে থাকব এবং ভোটের দিনও নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন। নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী।’

আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। এখানে তার সঙ্গে নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মো. আফছারুল আমিন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বিএনপির নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মহাজোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারির সঙ্গে বিএনপির আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলমের সঙ্গে বিএনপির মো. ইসহাক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল প্রতীক) আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির (ধানের শীষ প্রতীক) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

চট্টগ্রাম-০৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিমের সঙ্গে বিএনপির মো. জসীম উদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-০৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল এলডিপির (ধানের শীষ প্রতীকে) মো. নুরুল আলম, চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মহাজোটের শরিক দল জাসদের (নৌকা প্রতীক) মঈন উদ্দীন খান বাদলের সঙ্গে বিএনপির আবু সুফিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের এম এ লতিফের সঙ্গে বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সঙ্গে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত এলডিপির (ছাতা প্রতীক) ড. অলি আহমদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী জামায়াত নেতা (ধানের শীষ প্রতীক) আ ন ম শামশুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এই আসনগুলোর মধ্যে ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগের একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও চট্টগ্রামের অন্য আসনগুলোতে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।