থাগস অব হিন্দুস্তান ফ্লপের নেপথ্যে|112562|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
থাগস অব হিন্দুস্তান ফ্লপের নেপথ্যে
মাসিদ রণ

থাগস অব হিন্দুস্তান ফ্লপের নেপথ্যে

চলতি বছরে বলিউডের অন্যতম আলোচিত, তারকাবহুল ও ব্যয়বহুল ছবি ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’। তাই দর্শক-ভক্ত, হলমালিক এমনকি চিত্রসমালোচকদেরও ছবিটি ঘিরে ছিল আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। কিন্তু সমস্ত আশায় গুড়ে বালি দিয়ে ছবিটি নাম লিখিয়েছে ফ্লপের খাতায়। এ যেন দিওয়ালির মৌসুমে টাকা পুড়ল! সিনেমায় না পুড়লে, বাজিতে পুড়ত। তা মাফ হয়। কিন্তু বিশ্বাসের ফুলদানিটি যে টুকরো টুকরো হয়ে গেল, সে কী আর জোড়া লাগবে কোনো দিন?

১. দুর্বল চিত্রনাট্য
ছবির গল্পটাই ক্লিশে। কী ঘটছে, কেন ঘটছে, কোনো কিছুর পেছনেই শক্ত কোনো লজিক নেই। অতিরিক্ত টুইস্ট আনতে গিয়ে পুরো সিনেমাটাকে যাত্রাপালা বানানো হয়েছে।  ‘বাহুবলী’ ঘরানার ছবিতে হাত দিয়েও দর্শকদের হাততালি আদায় করা গেল না, তাহলে আর কী হলো? প্রযোজকের বিনিয়োগ ফেরাতে পেরেছে, কিন্তু অমিতাভ-আমিরকে এক ছবিতে নেওয়া হয়েছিল কি শুধু বিনিয়োগ ফেরানোর লক্ষ্যে?

২. পরিচালকের ব্যর্থতা
১৯ শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার এবং বিদেশি শক্তির দাসত্বের প্রত্যাখ্যান করতে সংগঠিত হওয়া হাজারো মানুষের গল্পই উপজীব্য। অতিরিক্ত গম্ভীর চরিত্রে অমিতাভ ও একেবারে লঘু মজার চরিত্রে আমির খান। ভারতের নাবিকদের লড়াই ও আবেগ আর বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মসলা সবই ছিল। কিন্তু পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের চিত্রনাট্য রাঁধা হলো না ঠিকমতো।

৩. ছবির সময়সীমা অতিরিক্ত
পৌনে তিন ঘণ্টার থাগস অব হিন্দুস্তানে অসংখ্য ভুলে ভরা। ছবির দৈর্ঘ্য এতটাই বেশি, অনেক সিনে সমালোচক এটাকে সিনেমা না বলে যন্ত্রণা বলেও অভিহিত করেছেন। ‘বিরতিতে পৌঁছে মনে হয়, এবার বাড়ি চলে গেলে হতো না? কারণ ততক্ষণেই জানা হয়ে গেছে খুদাবক্স (অমিতাভ) তার পালিত মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ফিরাঙ্গির (আমির) হাতে তুলে দিয়ে শহীদ হয়ে গেছেন।’

৪. পুরোনো ফর্মুলা
বাংলা সিনেমার কমন কিছু ফ্যাক্টরের একটা ছিল, নায়ককে ভিলেন আটকে রেখেছে কোনো এক গুদামঘরে, নায়িকা এসে সেখানে ঘাগরা-লেহেঙ্গা পরে নাচ শুরু করেছে গানের তালে তালে। বহু দিন বাদে সেই পুরোনো নস্টালজিয়ায় ভোগার সৌভাগ্য হয় থাগস অব হিন্দুস্তানের কল্যাণে। অমিতাভ বচ্চনকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে আটকে রেখেছে আর তাকে মুক্ত করতে এসে সেখানে ক্যাটরিনা-আমির-ফাতিমা সানা শেখ মিলে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে শুরু করেছেন তা-বনৃত্য! ইংরেজরা আবার সেটা উপভোগ করছে, সেইসঙ্গে অমিতাভ বচ্চনও!

৫. কারিগরি অদক্ষতা
এত দিন অনেকেই ভাবতেন ‘ধুম-থ্রি’ বুঝি আমিরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে কাজ, কিন্তু এই ছবি দেখার পর সেই ধারণা মিছে মনে হতে পারে। একটার পর একটা দৃশ্য শুধু জুড়ে দেওয়া হয়েছে মনে হবে। এর মধ্যেও অমিতাভ বচ্চনের অভিনয় ভালো লেগেছে, তারচেয়ে অনেক বেশি ভালো লেগেছে তার ডায়ালগ ডেলিভারি।

৬. বিশ্লেষকদের মত
চিত্রসমালোচকরা শুরু থেকেই এই সিনেমা নিয়ে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সব সময় বাকি সবাই একদিকে, কামাল আর খান ওরফে কেআরকে থাকেন একদিকে। থাগসের রিভিউ দিতে গিয়ে সেই তিনি বললেন, কাউকে ফ্রি টিকিট, ফ্রি কোল্ড ড্রিংকস আর ফ্রি সমুচা দিয়েও এই সিনেমা দেখানো সম্ভব নয়! এমন অসাধারণ সৃষ্টির পরে পরিচালক বিজয়কৃষ্ণ আচার্য্যরে দুই হাতও কেটে নেওয়া দরকার, যাতে এমন কিছু বানানো সাহস তিনি আর না পান!

৭. অমিতাভ-আমির প্রসঙ্গ
আমির খানের ছবিতে শেষ কিছু বছর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা থেকেছে বলেই যে তাকে সেই ধাচেরই ছবি করতে হবে, এমনটা ধরে নেওয়াটা বোকামি। সেখানে বিনোদনে ভরা একটি ছবি উপহার পেলেই যথেষ্ট হতো। কিন্তু খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি গোছের একটা চিত্রনাট্য কী করে আমিরের মতো বিচক্ষণকে বেচলেন প্রযোজক বা পরিচালক, খটকা তাতেই! আমিরের ভালো চিত্রনাট্য বাছার ক্ষমতার ওপর মানুষের যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, সেটি আপাতত কমেছে, যারা এই ছবি দেখেছেন তাদের কাছে। অমিতাভ ও আমিরের যৌথ উপস্থিতি আসলে কোনো ম্যাজিক তৈরি করছিল না।

৮. নায়িকারা শোপিস
ক্যাটরিনাকে দেখে মনে হয়েছে, জান লেগি কেয়া? ওই যে, কী লাস্য। বরং ফতিমা সানা শেখ ফিকে। কেরিয়ারের মোড় ঘোরাতে পারে এমন চরিত্র তো ফতিমাদের কাছে রোজ-রোজ আসে না।