সুদের হার আরো কমাতে হবে|112577|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সুদের হার আরো কমাতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক রায়ান বণিক

সুদের হার আরো কমাতে হবে

তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম রপ্তানিকারক শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি। এর আগে পোশাক কারখানার মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে ব্যবসা-বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গতকাল দেশ রূপান্তর’কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

 

নির্বাচনের সময় রাজনীতির পরিবেশ শান্ত, ব্যবসার পরিবেশ কেমন?

এবারই প্রথম রাজনীতিবিদরা জনগণের কথা চিন্তা করে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পরিহার করছেন। এটা দেশের মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ের জন্য ভালো। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী দিনগুলোতেও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি এড়িয়ে চলবেন বলে আশা করছি।

অনুকূল পরিবেশেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না কেন?

অবকাঠামোগত সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। তারা অপেক্ষা করছেন। নতুন বিনিয়োগের জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে। সুদহার আরো কমাতে হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তো উন্নতি হয়েছে?

যদিও ২০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা আছে, তবু বিদ্যুৎ সংকট নেই-তা বলা যাবে না। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। কারণ, উৎপাদনসক্ষমতা বাড়লেও সে অনুযায়ী ট্রান্সমিশন সক্ষমতা বাড়েনি। ঢাকাতেও ‘কোয়ালিটি’ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ থাকলেও কোয়ালিটি বিদ্যুৎ না পেলে মেশিন নষ্ট হয়ে যায়।

এলএনজি আমদানির পর শিল্পে সংযোগ মিলছে না?

না। হয়তো দু-একটি শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঢালাওভাবে বা চাহিদামতো সব শিল্পে গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া নতুন বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়বে না।

সুদের হার সরকার ৯ শতাংশ করেছে। আপনি কি আরো কমানোর কথা বলছেন?

হ্যাঁ, সুদের হার আরো কমাতে হবে। অন্যান্য দেশের সুদহার এর চেয়েও কম। এত উচ্চসুদে বিনিয়োগ করে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশ। তাতে পোশাক খাত কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে?

পোশাক খাতের আরো ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আমরা এখনো কম দামি পোশাক উৎপাদন করছি। এইচএস কোডের ৬১-৬১ চ্যাপ্টারেই (কম দামের পণ্যের কোড) আটকে আছি। সুইম ড্রেস, স্পোর্টস ওয়্যার, স্যুটের ক্ষেত্রে আমরা এখনো ভালো করতে পারিনি। এদিকে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ করতে হবে। হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি, ভারী শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর সময় এসেছে।

আগামী সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা কী?

ব্যবসার জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ চাই। হয়রানিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক আমলাতন্ত্র চাই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাই। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা চাই। নতুন সরকার দ্রুত অবকাঠামো সংকট দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, তা চাই আমরা।