বিষয় নির্বাচনে নতুনত্ব|112773|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বিষয় নির্বাচনে নতুনত্ব
ওয়াহিদ সুজন

বিষয় নির্বাচনে নতুনত্ব

বছর কয়েক আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির ছায়ায় সংঘটিত ‘আগুন সন্ত্রাসের’ প্রেক্ষাপটে মানবিক গল্প সাজিয়েছেন নির্মাতা রায়হান রাফী। স্থান-কালের ক্রমাগত রদবদল ও আবহ স্বরের বর্ণনা ধরে আগুনে পোড়া একটি বাসের যাত্রীদের কাছাকাছি পৌঁছে যান দর্শক।

‘দহন’ সিনেমায় বেশ কয়েকটি গল্প আছে। যেমন : যে মেয়েটি নায়িকা হওয়ার জন্য এফডিসিতে নিত্য ঘোরাঘুরি করে, তার শ্যুটিংয়ের প্রথম দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা দরিদ্র পরিবারের এক তরুণ। নিজের জন্মদিনে দাদার সঙ্গে স্কুল থেকে বাসায় ফিরতে থাকা ছোট একটা মেয়ে। কিডনি বিক্রি করে মায়ের অপারেশনের জন্য টাকা নিয়ে যাচ্ছেন এক তরুণ। আরেকজন ঢাকায় এসেছেন বাবার জন্য হজের কাগজপত্র তৈরি করতে।

আরো একজন আছেন। আশা, যিনি এ সিনেমার নায়িকা। যার চরিত্রে আছেন পূজা চেরী। আগুনে তিনি জ্বলসে যান, আর সেই আগুন ছুড়েছে তার প্রেমিক তুলা। এ চরিত্রে আছেন সিয়াম আহমেদ। ট্রেইলারে দর্শকরা দেখেছেন লিডারের নির্দেশে এ অপকর্ম করেন তিনি। তারপর কী ঘটে, থাতুক তবে রহস্য!

মানতেই হবে বিষয় নির্বাচনে নতুনত্ব রয়েছে। কাজটির পরিকল্পনাও সাহসের। আবার বিষয় নির্বাচনের মতো করে গল্প ততটা জমেনি। পুরো ছবিজুড়ে ট্র্যাজিক আবহ ধরে রেখেছেন নির্মাতা, যা গল্পের সাবলীলতাকে ক্ষুণœ করেছে। তবে স্বস্তিকর কিছু যে নেই, তা নিশ্চয় নয়। বিশেষ করে তুলা ও আশার সম্পর্ক ও এর টানাপোড়েন বেশ আরামদায়ক।

সিনেমা মুক্তির আগে তুলা চরিত্র সম্পর্কে যতটা বলা হয়েছে, ততটা ভয়ংকর মনে হয়নি তাকে। ভয়ংকর সন্ত্রাসীর মতো করে নায়ককে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। ‘পোড়ামন ২’ সিনেমার সুজনের মতোই খেয়ালি মনে হয়েছে। জন্ম-পরিচয়হীনতা নিয়ে যন্ত্রণা আছে, কিন্তু এ নিয়ে প্রশ্ন নেই, ক্ষোভ স্পষ্ট না। হ্যাঁ, আশাকে নিয়ে ঘর বেঁধে বদলে যাওয়ার আকাক্সক্ষা আছে।  ছবিতে আশা তথা পূজার গল্প মোটামুটি বলা গেলেও বাকি সাব-প্লটগুলো বাংলা সিনেমার প্রথাগত মেলোড্রামা দিয়ে আবর্তিত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। এমনকি শ্রেণি হিসেবে বাসযাত্রীদের কাছাকাছি রকমের সামাজিক বিন্যাস থেকে আনা হয়েছে। ধর্ম পরিচয়ের ভিন্নতাও ক্লিশে।পুরো সিনেমাটি আবর্তিত হয়েছে তুলা চরিত্রকে কেন্দ্র করে। আত্মকথন ও ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে গল্প এগিয়েছে। ভঙ্গিটি চমৎকার। একহারা বর্ণনার চেয়ে এভাবে গল্প বলায় এক ধরনের উত্তেজনা থাকে। সিয়ামের অনুশোচনাহীন অপরাধ, পরে পাপবোধই গল্পের মূল প্রাণ। সিয়াম আহমেদ অনেক খাটুনি করেছেন কিন্তু মাঝে মাঝে অতি-অভিনয় মনে হয়েছে। চরিত্র থেকে নায়কোচিত উচ্চকিত হয়ে উঠেছে।

সেই তুলনায় সপ্রতিভ ছিলেন পূজা চেরী। তার অভিনয় একদম আড়ম্বরহীন, নায়িকা হিসেবে বাড়তি কোনো চাপ নেই। বাকি চরিত্রের মধ্যে মনিরা মিঠু বরাবরের মতোই সাবলীল। ফজলুর রহমান বাবু আজকাল বড়ই একঘেয়ে। এ ছাড়া দু-একজন ছাড়া অন্য পার্শ্বচরিত্ররা ভালো করেছেন। তবে খানিকটা হতাশ করেছেন জাকিয়া বারী মম। তার অভিনীত চরিত্রের ততটা গভীরতা ছিল না। অভিনয়ও কখনো কখনো আরোপিত মনে হয়েছে।

‘দহন’-এর লোকেশনের ব্যবহার যথাযথ, এর মাঝে বাগড়া দিয়েছে যত্রতত্র ধোঁয়ার ব্যবহার। কালার এত জমকালো না হয়ে গল্পের ধরন অনুযায়ী ডার্ক টোন হলে ভালো লাগত। কারিগরি টিম ভালোই করেছেন। বিশেষ করে গ্রাফিকসে ব্যবহার প্রশংসনীয়।

এ ধরনের কিছু আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে হাজির হয়েছে ‘দহন’। গল্প নির্বাচন, নির্মাণে এগিয়ে থাকার চেষ্টা মিলে রায়হান রাফীকে আমরা সাধুবাদই জানাব। এটাও বলব, চলতি বছরের অন্যতম সিনেমা ‘দহন’।