২০২০-এর আগে চালু হচ্ছে না পদ্মা সেতু|112807|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
২০২০-এর আগে চালু হচ্ছে না পদ্মা সেতু
মামুন আব্দুল্লাহ

২০২০-এর আগে চালু হচ্ছে না পদ্মা সেতু

পিয়ারের নকশা চূড়ান্ত না হওয়ায় মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে : প্রকল্প পরিচালক

মেয়াদ ১ বছর বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু ব্যয় বাড়বে  না : পরিকল্পনামন্ত্রী

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী বছরের শেষ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। নতুন সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশের দীর্ঘতম সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেয়াদ অনুযায়ী চলতি ডিসেম্বরেই সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নতুন করে এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার কথা স্বীকার করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণ হলো আমরা মূল সেতুর সবগুলো পিয়ারের নকশা দিতে পারিনি। নকশাবিদরা খুবই সতর্কভাবে কাজ করছেন। কারণ, তাদের এমন কিছু কাজ করতে হচ্ছে, যা আগে কখনো করতে হয়নি। তিনি বলেন, মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হলে ওই মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হবে। তবে ব্যয় আর বাড়ানো হবে না। এবার মেয়াদ বাড়ানোর পর আর কখনো মেয়াদও বাড়াতে চাই না।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারীরা জানিয়েছেন, এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হলে তার মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আমরাও আশাবাদী, বড় কোনো কারণ না থাকলে ২০১৯-এর শেষে বা ২০২০-এর শুরুতে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল করবে।

প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর কর্মকর্তারা বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে যে ধরনের কর্মচাঞ্চল্য থাকা দরকার ছিল, সরেজমিন পরিদর্শনকালে আইএমইডির চোখে তা পড়েনি। আইএমইডি বলেছে, বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হলে ধীরগতিতে বাস্তবায়ন হওয়ার বাস্তব কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা এ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ দুবার বাড়ানোর পর চলতি ডিসেম্বরে মোট মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ৯ বছর। এই সময়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, বাস্তব অগ্রগতি ৬০ শতাংশ।

আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, সেতু কর্র্তৃপক্ষ থেকে নতুন করে মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর আবেদন করার পর চলতি ডিসেম্বরে আইএমইডির কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। চার সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইএমইডি সচিব মফিজুল ইসলাম।

পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রকল্পের জন্য যে ধরনের গতি থাকা দরকার, পরিদর্শনকালে তা দেখা যায়নি। বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে এ ধরনের ধীরগতির কারণগুলোর বিষয়ে কর্র্তৃপক্ষকে সতর্ক হতে হবে।

পরিদর্শন দলে থাকা আইএমইডির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দুবারের বেশি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কথা না। কিন্তু এটা যেহেতু বড় প্রকল্প, এ জন্য ব্যয় না বাড়িয়ে শুধু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে বলে মতামত দিয়েছে আইএমইডি।

তিনি বলেন, পরিদর্শনকালে সেতু অঞ্চলে যে পরিমাণ কর্মযজ্ঞ দেখার কথা ছিল, তা আমরা পাইনি। এ জন্য কাজের ধীরগতির কারণ চিহ্নিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডি শফিকুল ইসলাম বলেন, আইএমইডির পরিদর্শন দল যখন এসেছিল, তখন হয়তো কোনো সমস্যা ছিল। কাজে ধীরগতি হওয়ার যেসব কারণ ছিল, তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজের গতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আইএমইডি বলছে, মূল সেতুর ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টি পিয়ারের পাইল রি-ডিজাইন দরকার হয়। এখন পর্যন্ত ২০টি পিয়ারের পাইল রি-ডিজাইন সম্পন্ন করে কনস্ট্রাকশন ড্রয়িং ঠিকাদারকে ইস্যু করা হয়েছে। দুটি পিয়ার পাইল রি-ডিজাইন চলমান রয়েছে। 

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, ২২টি পিয়ারের পাইল সিকোয়েন্স অনুসায়ী এগুলো স্থাপন করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সেতুর নির্মাণকাজ বিলম্ব হচ্ছে।