পিইসি, জেএসসি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী|112884|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫৬
পিইসি, জেএসসি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক

পিইসি, জেএসসি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা চলমান রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, এসব পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে। খবর বাসস

তিনি বলেন, প্রাথমিকে যেহেতু ক্লাস ফাইভে এবং এইটে একটা পরীক্ষা হচ্ছে- জানি অনেকেই এর বিরুদ্ধে কথা বলেন। অনেকের আপত্তি আছে কেন এই পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু এই পরীক্ষার ফলে আমাদের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, তারা পরীক্ষার পরে হাতে যে একটা সার্টিফিকেট পাচ্ছে সেটা আমি মনে করি তাদের সামনের দিকে পড়াশোনায় আরো মনোযোগী করবে, এ কথা বলেন তিনি।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সবাই তো আর উচ্চশিক্ষা নেবে না, অনেকে কারিগরি শিক্ষা বা অন্য যেসব তাদের দক্ষতা রয়েছে সেসব পেশায় তারা যাবে। এ অবস্থায় একটি সার্টিফিকেট থাকলে তাদের সুবিধা হয়।

সোমবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও এর সমমানের ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এ ফল হস্তান্তর করেন।

একই অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন।

৮ সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং ১ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী একান্ত প্রয়োজন। তাই, আমরা শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। যে শিক্ষাটা হতে হবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন।

আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়ার আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এবং ৬টি নির্মাণও করে দেয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি এ সময় কম্পিউটারের ট্যাক্স কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসায় আওয়ামী লীগ সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, যার সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আজকে সেই বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টি মিডিয়া ক্লাস রুম প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হবে কারণ একটি শিক্ষিত জাতিই পারবে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে চাই। ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা গ্র্যাজুয়েশন পেয়ে গেছি। সেটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি বলেন বলেন, পরীক্ষার ফলাফল উন্নতিতে আমরা অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ফলাফল যেন সঠিক সময়ে হয় সেটাও আমরা দেখছি। বিনা পয়সায় বই বিতরণের সুবাদে শিক্ষার প্রতি মানুষের উৎসাহ বাড়ছে।

তিনি এ সময় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান প্রদানের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাতে তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, যারা শিক্ষা গ্রহণ করছে এর মাধ্যমে তাদের জন্য জীবন-জীবিকা এবং সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সকলকে নিয়ে যে একটি সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম সেই কাজটাই আমরা করতে পেরেছি।

পরীক্ষার ফলাফলে প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃতকার্য হওয়াকে ভালো উল্লেখ করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় আরো উৎসাহ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চলতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩০,৯৫,১২৩ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

জেএসসি ও জেডিসি’র মোট ২৫,৯৯,১৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২,৩০,৮২৯ শিক্ষার্থী এবং এর পাসের হার হচ্ছে ৮৫.৮৩। এর মধ্যে ৬৮,০৯৫ শিক্ষার্থী জিপিএ পেয়েছে।