বিনিয়োগ বাধ্যবাধকতায় আগ্রহী নয় ৫৫ ব্রোকার|112955|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বিনিয়োগ বাধ্যবাধকতায় আগ্রহী নয় ৫৫ ব্রোকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনিয়োগ বাধ্যবাধকতায় আগ্রহী নয় ৫৫ ব্রোকার

চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে কৌশলগত শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী নন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ২৪ শতাংশ ব্রোকার। শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে সরকার যে কর রেয়াতি সুবিধা দিয়েছে, তা নেয়নি ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস।

ফলে চীনাদের কাছে ডিএসইর শেয়ার বিক্রি থেকে যে অর্থ তারা পেয়েছেন, তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধ্য নন তারা।

ডিএসইর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন তারা। ডিএসইর ৫৫ ব্রোকারেজ হাউস রেয়াতি সুবিধা না নেওয়ায় ১৯৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার।

গতকাল পর্যন্ত ২২৭ ব্রোকার তাদের প্রাপ্য অর্থের চেক নিয়েছেন। এর বাইরে ২৩  ব্রোকার রয়েছেন, যারা কর রেয়াতের শর্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।

তারা যদি রেয়াতি সুবিধা না নেন, তাহলে চীনাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে না।

তালিকাভুক্ত কোম্পানি না হওয়ায় ডিএসইর শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে মূলধনী মুনাফায় ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ কর নেওয়ার দাবি জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।

চলতি বছর সূচকে নিম্নমুখী ধারার প্রেক্ষিতে চীনাদের কাছে শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ৩ বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রাখার শর্তে ডিবিএর প্রস্তাবে রাজি হয় সরকার।

ডিএসইর শেয়ার বিক্রিতে মূলধনী মুনাফায় শর্তসাপেক্ষে কর ছাড়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারির পর গত ৩০ অক্টোবর ব্রোকারদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হয়।

এরপর গত রোববার পর্যন্ত ডিএসইর মোট ২৫০ শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে ২২৭ সদস্য চেক নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৩৮ সদস্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ৫ শতাংশ কর দিয়ে চেক নিয়েছেন।

আর ৫৫ সদস্য বিনিয়োগের শর্তে রেয়াতি সুবিধা না নিয়ে ১৫ শতাংশ কর দিয়েছেন।

এ ছাড়া ৩৪ প্রতিষ্ঠানের কোনো মূলধনী মুনাফা না হওয়ায় তাদের কর দিতে হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিবিএর প্রস্তাবে আমরা রাজি হই। এখন কেউ কর রেয়াতের সুবিধা না নিলে হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মালিক বলেন, বাজারের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে বিনিয়োগ করলে বড় অংকের লোকসান হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ জন্য এ অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগের চিন্তা করছি। অপর এক ব্রোকার বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তাই এ মুহূর্তে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিতে চাই না।

চীনের সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত জোটের কাছে ২৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৯৬২ কোটি টাকা পায় ডিএসই। প্রতিটি শেয়ার বিক্রি হয় ২১ টাকায়।

স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ ১৫ কোটি টাকা সরকারকে দেওয়ার পর অবশিষ্ট ৯৪৭ কোটি টাকা ২৫০ শেয়ারহোল্ডার পাবেন। এ হিসেবে ডিএসইর প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা।

এরমধ্যে যারা পুঁজিবাজারে অন্তত তিন বছর বিনিয়োগ ধরে রাখবেন, তাদের মূলধনী মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ কর দিলেই হবে। আর যারা বিনিয়োগের শর্তে রাজি নন, তাদের দিতে হবে ১৫ শতাংশ করে।

এ ছাড়া যাদের মূলধনী মুনাফা হয়নি অর্থাৎ চীনাদের কাছে যে দরে শেয়ার বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দরে ব্রোকারেজ হাউস কিনেছেন, তাদের কোনো কর দিতে হবে না।

৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ শতাংশ কর দিয়ে ১৩৮ ব্রোকারের পুঁজিবাজারে ৪৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কর রেয়াতি সুবিধা নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে।

এ ছাড়া মূলধনী মুনাফা হয়নি, এমন ৩৪ ব্রোকারের প্রায় সবকটির মালিকানায় রয়েছে ব্যাংক, বীমা ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যাদের অধিকাংশই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।