সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়া আস্থা ফিরবে : সিইসি|113014|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়া আস্থা ফিরবে : সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়া আস্থা ফিরবে : সিইসি

ভোট সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামায় ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে মন্তব্য করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। গতকাল সোমবার ঢাকায় এক নির্বাচনী কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। এ সুযোগে আমি সব রাজনৈতিক দলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করি, নির্বাচন যেন নির্বাচনের মতো হয়। সহিংসতা, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, তর্ক-বিতর্ক, হাঙ্গামা পরিহার করে কেবল নির্বাচনী প্রচারের মাধ্যমে নির্বাচনে নিবদ্ধ থাকার জন্য অনুরোধ করি। সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী যেকোনো দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মাঠে গিয়ে পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনবে।

এ ছাড়াও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদেরও সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। ২৭ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে জনসভা করতে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)  কমিশনারের সঙ্গে কথা বলিনি। এখান থেকে ফিরে আমি কথা বলব। এগুলো তো আইনশৃঙ্খলার বিষয়। ডিএমপি এসব ভালো বোঝে। আমরা এগুলো তেমনভাবে জানি না। জনসভা ঘিরে কোনো থ্রেট আছে কি না, কোনো আশঙ্কা আছে কি না আমি তা আলাপ করে দেখব।’

ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের মহড়া (মক ভোটিং) পরিদর্শনে গিয়ে ইভিএমের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সিইসি বলেন, প্রত্যেকেই সুন্দরভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ছয়টি আসনের প্রতিটি কেন্দ্রেই ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রত্যেকেই এখন জানেন, কীভাবে ইভিএমে ভোট নিতে হয়। ইভিএমে ভোট নিয়ে সন্দেহ দূর করতে মক ভোটিংয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই ইসি সীমিত সংখ্যায় মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোট নিচ্ছে। এখনো যারা ইভিএম নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন তাদেরকে বলি, আপনারা ছয়টি আসনে চলমান প্রশিক্ষণে আসুন। সবকিছু ভালোভাবে জানুন, বুঝুন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট দেবেন ভোটাররা। ভোট সামনে রেখে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, গ্রামপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকছে। গতকাল সোমবার ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী মাঠে থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে আইন ও শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ২৪ ডিসেম্বর হতে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচন কমিশন বা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করবে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এতে আরো বলা হয়, উপকূলীয় ১৮টি উপজেলা ও সীমান্তবর্তী ৮৭টি উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য ৩৮৯টি উপজেলায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় ১৮টি উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং সীমান্তবর্তী ৮৭টি উপজেলায় বিজিবি অন্যান্য দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাশাপাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্র্তৃক জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান নির্বাচনী সহায়তা দিতে প্রস্তুত রাখা হবে বলে আইএসপিআর থেকে জানানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী বা নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বা মহাসড়কসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জয়েন্ট কো-আর্ডিনেশন সেল স্থাপন করা হবে।