বড়দিনে বড় একা ডোনাল্ড ট্রাম্প|113120|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বড়দিনে বড় একা ডোনাল্ড ট্রাম্প
রূপান্তর ডেস্ক

বড়দিনে বড় একা ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার রেশ চলছে বড়দিনেও। অন্যান্য বছরের বড়দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যেমন জমকালো আয়োজন করা হয়, এবার তেমনটি হয়নি। হোয়াইট হাউসের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা ক্রিসমাস ট্রি হয়ে উঠেছে এবার অচলাবস্থায় কর্মহীনতার প্রতীক হিসেবে। অচলাবস্থার কারণে দেশটির ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস বন্ধ হয়ে আছে তিনদিন ধরে। ফলে সরকারিভাবে ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর লোকও পাওয়া যায়নি এবার।

বড়দিনে ফ্লোরিডা সফর বাতিল করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে আমি সম্পূর্ণ একা বসে আছি ডেমোক্র্যাটরা ফিরে আসবে বলে এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিলে স্বাক্ষর করবে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের শাটডাউনে নিজ দলের মধ্যে একা হয়ে পড়েছেন ট্রাম্প।

এরই মধ্যে তৃতীয় দিনের মতো চলমান অচলাবস্থা এবং শেয়ারবাজারে নি¤œগতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর একহাত নিলেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সিনেটের সিনেটর চাক শুমার এবং হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলসি এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বড়দিনের এই প্রারম্ভে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ সোমবার ককাস কমিটিতে শুমার ও পেলসি ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিরও ব্যাপক সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেকের উপস্থিতিতে এ সময় ওই দুই নেতা বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হাউস ফ্রিডম ককাস প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় চলবে, ততদিন হাউস এবং সিনেটের পক্ষে ট্রাম্পের শাটডাউন বন্ধ করতে কোনো সমাধানে আসা সহজ হবে না।’

এখন পর্যন্ত সিনেটে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ফান্ডের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্প পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাজেট দাবি করে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ বলে দেয় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা। এর বিপরীতে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সরকারের ব্যয় সংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা। তবে যুক্তরাষ্টের বেশকিছু গণমাধ্যম বলছে, গত শনিবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এরই মধ্যে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করতে দুই দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। বাজেট নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে আবার আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। গত রোববার ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত অচলাবস্থা চলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

গত সোমবার ট্রাম্প দশবারের বেশি টুইট করেছেন বিরোধীদের আক্রমণ করে। টুইটবার্তায় তিনি ফান্ড বাতিলের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দোষারোপ করেছেন। এদিকে দ্য ডৌ জোনসের সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৬৫০ পয়েন্টে ঠেকেছে বলে উল্লেখ করেছে সিএনবিসি টেলিভিশন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের পদত্যাগের পর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে অস্থিতিশীলতা ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানকে আক্রমণের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের বাস্তবতাকে আরো হুমকির মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প। ট্রেজারি সচিব স্টিভেন নুচিন ব্যক্তিগতভাবে ক্যাবিনেট সদস্যদের সঙ্গে দেখা করছেন ট্রাম্পের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে বরখাস্ত করার ব্যাপারেও আলোচনা চালান নুচিন।