ফাইনালে মুখোমুখি রাসেল ও বসুন্ধরা|113160|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ফাইনালে মুখোমুখি রাসেল ও বসুন্ধরা
সুদীপ্ত আনন্দ

ফাইনালে মুখোমুখি রাসেল ও বসুন্ধরা

মৌসুমের দ্বিতীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালের আগের দিন অনেকটাই নির্ভার দেখাল বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজনকে। নির্ধারিত সময়ের খানিক আগেই সংবাদ সম্মেলনস্থল বাফুফে ভবনে এসে হাজির এই স্প্যানিয়ার্ড। মিডফিল্ডার ইমন বাবুকে নিয়ে বাফুফের মূল ফটকের বাইরে রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছিলেন। কাপ হাতে ব্রুজনের প্রাণখোলা হাসি দেখে বোঝা যাচ্ছিল না, কতটা চাপে আছেন এই ভদ্রলোক। চাপে থাকবেনই বা না কেন? ফেডারেশন কাপে খুব কাছে গিয়েও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি। স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে আসাটাও মসৃণ ছিল না তার দলের। নকআউট পর্বের দুই ম্যাচেই পেরুতে হয়েছে টাইব্রেকারের কঠিন বাধা। তার ওপর দলে নিয়মিত খেলোয়াড়দের বেশ কজনকে নানা কারণে না পাওয়াও এক প্রকার নিশ্চিত। হারলে তার ওপর ক্লাবের আস্থাটাও খানিক টলে যেতে পারে। আজ শেখ রাসেলের বিপক্ষে ফাইনালের আগে এই ‘চাপ’কে জয় করে দলের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নেওয়াই যে স্প্যানিশ কোচের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘বড়’ দল গড়েও ‘বড়’ ম্যাচের চাপ এখনো কাটিয়ে ওঠা হয়নি নবাগত দলটির। টাটকা উদাহরণ ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর কাছে ৩-১ গোলে হার। এবার কিন্তু একই পরিণতি বরণ করতে চান না ব্রুজন। তাই বড়দিনের উদযাপনটা তিনি তুলে রেখেছেন ফাইনালের জন্য। যেখানে জিতে সব উদযাপন একসঙ্গে করতে চান এ কোচ, ‘এবারের বড়দিনটা আমার জন্য বিশেষ কিছু নয়। উদযাপন তো করবই, তবে এখনই নয়। সব একসঙ্গে করতে চাই ২৭ তারিখ।’

এ কথাতেই বোঝা গেল শিরোপার জন্য কতটা মুখিয়ে তিনি। চাপের বিষয়টা আসতেই প্রশ্নটা লুফে নিলেন ব্রুজন, ‘ফাইনালে ওঠাটা কেবল চাপ নয়, সন্তুষ্টিরও। আমরা উন্নতির সঠিক পথেই রয়েছি। ফাইনালে আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে চাই। চেষ্টা করব ভিন্নমাত্রার ফুটবল খেলতে।’ এরপরই নিজের চোখে দেখা প্রতিপক্ষ শেখ রাসেলের ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘রাসেলের রয়েছে একটি নিরেট ডিফেন্স। তাদের মধ্যমাঠটাও গোছাল। আর রয়েছে ভালোমানের আক্রমণত্রয়ী। সহজ হবে না ম্যাচটা।’ বাফুফের নিষেধাজ্ঞায় দলের বাইরে স্ট্রাইকার তৌহিদুর রহমান সবুজ এবং ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা। ইনজুরি ছিটকে দিয়েছে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার গতোর ব্লাসকে। এদের অনুপস্থিতি গত দুই ম্যাচে বেশ ভুগিয়েছে দলকে। গত ম্যাচে খেললেও ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াস। তার ওপর কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুইশবেকভ কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গেছেন ওই দেশে। তার ফেরার কথা ছিল গতকাল রাতেই। জাতীয় দলের ম্যাচ খেলে, লম্বা বিমান ভ্রমণের পর আজকের ফাইনালে তাকে পাওয়া নিয়েও চিন্তা আছে বসুন্ধরা শিবিরের।

শেখ রাসেলের অবশ্য খেলোয়াড় নিয়ে ততটা দুর্ভাবনা নেই। তাছাড়া স্বাধীনতা কাপের ফাইনালও দলটির কাছে নতুন কিছু নয়। এর আগে দুবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতায় একবার শিরোপাও জিতেছে তারা ২০১৩ সালে। পাঁচ বছর পর ফের এই শিরোপা জয়ের আগে অবশ্য অতীতের প্রাপ্তি নিয়ে ভাবছেন না দলের অভিজ্ঞ কোচ সাইফুল বারী টিটু, ‘আপনাকে দেখতে হবে পাঁচ বছর আগে সেই দলের কজন খেলোয়াড় এই দলে আছে। আমি বরং কালকের ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’

এই আসরের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না রাসেলের। কোনো গোল না করে কেবল দুটি ড্রয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসে দলটি। নকআউট পর্বের দুই ম্যাচে অবশ্য গোলে ফিরেছেন তার স্ট্রাইকাররা। ম্যাচ দুটিই জিতেছে ২-০ গোলের ব্যবধানে। ‘দল ম্যাচ বাই ম্যাচ উন্নতি করেছে। সব কৃতিত্ব ছেলেদের। আমি আশা করি তারাও দারুণ একটা ফাইনালের জন্য প্রস্তুত আছে। শিরোপা জয়ের জন্যও তারা মুখিয়ে।’ এই ফাইনালের আগে অন্যরকমভাবে উজ্জীবিত হয়েছে শেখ রাসেল। টিটুই জানালেন সেটা, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একটা ট্র্যাজেডি ঘটেছিল। আমাদের ফুটবলার সোহেল রানা সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী এবং সন্তানকে হারায়। এতদিন ও ক্যাম্পে ছিল না। দুই দিন আগে ক্যাম্পে যোগ দিয়েছে। এটা আমাদের অন্যভাবে উজ্জীবিত করছে।’ দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম রানাও জানিয়ে দিলেন এই ফাইনালটা তারা খেলবে স্বজনহারা সোহেলের জন্যই, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম যদি ফাইনাল খেলতে পারি তবে ট্রফিটা সোহেলের নিহত স্বজনদের নামে উৎসর্গ করব।’

এর আগের নয় আসরে সাতটি দল পেয়েছে স্বাধীনতা কাপের শিরোপার স্বাদ। মোহামেডান জিতেছে তিনবার। বাকি ছয় দল ছয়বার করে। আজ বসুন্ধরা জিতলে সংখ্যাটা আট হবে। নয়তো মোহামেডানের পর রাসেলই পাবে একাধিকবার এই শিরোপা উৎসবের উপলক্ষ। গ্রুপে মুখোমুখি এই দুই দলের ম্যাচটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।