আতঙ্কের মধ্যেও লড়াই দেখছেন ভোটাররা|113302|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
আতঙ্কের মধ্যেও লড়াই দেখছেন ভোটাররা
আশরাফুল ইসলাম রানা

আতঙ্কের মধ্যেও লড়াই দেখছেন ভোটাররা

বেলা সোয়া ১১টা, শ্যামপুর লালমসজিদের সামনের সড়কসংলগ্ন চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আলামিন নামে এক যুবক। সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকার ভোটের খবর জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘ভাই রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু বলার থাকলে বলেন। এলাকার অবস্থা খারাপ, কিছু কইয়া বিপদে পড়তে চাই না।’ কিসের বিপদ? জিজ্ঞাসা করতেই অনুরোধ, ‘ভাই মাফ করেন।’

একটু দূরে কয়েকজন রিকশাচালক ভোটের আলোচনা করছিলেন। তাদের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানেও একই অবস্থাÑ চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে তারাও চুপ। একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছিলেন। এলাকায় কোন প্রার্থীর অবস্থা ভালোÑ প্রশ্নের উত্তরে একজন বললেন, ‘আমি ২০ বছর থেইক্যা এই এলাকায় থাকি। অনেকগুলা নির্বাচন দেখছি, তয় এবারেরটা জোর লড়াই হইব মনে হয়।’

পুরান ঢাকার শ্যামপুর-কদমতলী নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসনের ভোটারদের সঙ্গে গতকাল বুধবার কথা বলে পাওয়া গেছে, এমন আতঙ্কময় পরিবেশের চিত্র। বেশিরভাগই মানুষ নির্বাচন নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি। কেউ কেউ বলেছেন, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা। এ ক্ষেত্রে পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন ভোটাররা।

রাজধানীর এই আসনে সরাসরি আওয়ামী লীগ থেকে কোনো প্রার্থী নেই। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে দলীয় লাঙ্গল প্রতীকে ভোটে লড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তার প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার এই এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন।

শ্যামপুর লালমসজিদ থেকে কয়েক গজ এগিয়ে গেলেই ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ উদ্দিনের বাড়ি। তার বাড়ির সামনে গিয়েও ধানের শীষের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। পোস্টার না থাকলেও নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। বুধবারও ধোলাইরপাড়, জুরাইন রেলগেট, মেডিকেল রোড, পোস্তগোলা এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। আগের দিন মিছিল নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পথে তাকে আটকে দেয় পুলিশ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধার মুখেও আমার ৯০ ভাগ প্রচার শেষ হয়েছে। ৩০ তারিখ রায় আমার দিকেই আসবে ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে দয়াগঞ্জ থেকে ফতুল্লা-পঞ্চবটী সড়ক ধরে নারায়ণগঞ্জের শুরু পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাঙ্গলের সারি সারি পোস্টার। প্রতিদিন দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এর বাইরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আলাদা করে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চাইছেন।