শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয়|113436|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৮:৫৮
শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয়
ডা. শাহ মোহাম্মদ ফাহিম

শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয়

ডায়রিয়া বলতে মূলত ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হওয়াকে বুঝায়। ডাক্তারি ভাষায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ বার বা তার অধিক পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। মূলত খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়ার জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। শিশুর ডায়রিয়া হলে তার বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

পানিস্বল্পতার লক্ষণ ও প্রতিরোধ 

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রধান জটিলতা হচ্ছে পানিস্বল্পতা। শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ার কারণে শিশুর পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। পানিস্বল্পতা হলে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, অস্থিরতা দেখা দেয় এবং প্র¯্রাব কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। পানিস্বল্পতার কারণে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। পানিস্বল্পতার লক্ষণগুলো হচ্ছেÑ

অস্থির ভাব, খিটখিটে মেজাজ বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া

চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া

তৃষ্ণার্ত ভাব বা একেবারেই খেতে না পারা

শরীরের চামড়া ঢিলা হয়ে যাওয়া

করণীয়

উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তবে সতর্ক থাকলে শিশুর পানিস্বল্পতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানিস্বল্পতা প্রতিরোধে শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। পাশাপাশি বারবার তরল খাবার যেমন : ডাবের পানি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, টক দই, ফলের রস, লবণ-গুড়ের শরবত ইত্যাদি খেতে দিতে হবে। শিশু বুকের দুধ খেলে তাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

শিশুর খাবার

আক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিক খাওয়ার ব্যাপারে নজর রাখা উচিত। খাদ্য তালিকায় ক্যালরি, আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে তার হজমশক্তির উন্নতি হয়। অনেক সময় ডায়রিয়ার সঙ্গে বমি থাকতে পারে। খাওয়ানোর সময় শিশু যদি বমি করে তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তাকে আবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। শিশুর ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও তাকে ভিটামিন ও খনিজ পরিপূরক দিতে হবে। কাঁচাকলা শিশুর ডায়রিয়ায় ভালো পথ্য হিসেবে কাজ করে। কাঁচাকলা খোসাসহ সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ালে ভালো উপকার পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, অবশ্যই খোসাসহ সিদ্ধ করতে হবে এবং এরপর খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াতে হবে।

ডায়রিয়ার চিকিৎসা

ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত ৭-১০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। শিশুর পানিস্বল্পতা প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন এবং স্বাভাবিক খাবারই যথেষ্ট। ডায়রিয়া যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, তবে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।

খেয়াল রাখতে হবে, ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া যাবে না। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা থাকে না। সাধারণত ডায়রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকগণ শিশুর পায়খানা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পায়খানায় ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব ধরা পড়লে চিকিৎসকগণ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ জনিত ডায়রিয়া বেশি হয়। সেক্ষেত্রে দেড় মাস থেকে ছয় মাস বয়সের মধ্যে এক মাস বিরতিতে দুই ডোজ রোটা ভাইরাসের টিকা খাওয়ানো হলে তা শিশুকে ডায়রিয়া থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পারে। আপনার শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরুন, শিশুর যতœ নিন। 

সম্পাদনা : লায়লা আরজুমান্দ
ডা. শাহ মোহাম্মদ ফাহিম
চিকিৎসক পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা বিভাগ, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ