প্রচার শেষে শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা|113533|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
প্রচার শেষে শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা

প্রচার শেষে শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা

মাত্র এক দিন পরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু হয়েছে। যেসব নির্বাচনী এলাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে সেসব ভোটকেন্দ্রেও এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সহিংসতা এবং রাজনৈতিক দমন পীড়নের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে উৎসবের আমেজ মøান হয়ে গেলেও সবার চোখ এখন ভোটকেন্দ্রের দিকে। দেশের মানুষ ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে চায়।

যে শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল সহিংসতার ঘটনায় তা অনেকাংশেই বিঘিœত হয়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ও সমর্থকরা হামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। টাকা ছিটিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে বেশ কয়েক স্থানে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ক’দিনের সহিংসতায় জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটই ভোটের মাঠ ছেড়ে না যাওয়ায় ভোটের দিনের জন্য মানুষ উদগ্রীব।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। গত ১০ বছরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাবেন ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্ম মোট ভোটারের ২২ শতাংশ। এদের অধিকাংশই গত নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের প্রত্যাশা অনেক।

দেশের মানুষ ভোটকে উৎসব হিসেবেই দেখে থাকে। কেননা এই সময়েই বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা ভোটপ্রার্থী হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যান, নিজের পক্ষে সমর্থন দিতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন। সব মানুষই যে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ তার এক ধরনের প্রতিফলন সাধারণ মানুষ দেখতে পায় কেবল এই ভোটের সময়েই। গ্রামগঞ্জে, নগরে-শহরে ভোটকে ঘিরে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, তা আর অন্য কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়।

অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেশের জনগণের বড় একটা অংশ আবার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। বলা যায়, প্রায় এক দশক এজন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেননা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ভোটই হয়নি। ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে ভোটাররা। নাগরিকদের মধ্যে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের রাজনৈতিক দল বা জোটের প্রতি নিজের সমর্থন জানানোর সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। আর তা কেবল জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সম্ভব। তাই ভোটের দিন যাতে মানুষ কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোট দিতে পারেনÑ সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই শক্তিশালী ও নিরেপক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অবশ্যই সতর্ক থেকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হওয়ার কাজে সহায়তা করতে হবে। ভোটের বিষয়ে যেন জনগণের আশাভঙ্গ না হয় সে দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবারই।