দেশি ব্র্যান্ডে সমৃদ্ধির স্বপ্ন বাংলাদেশের|113563|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
দেশি ব্র্যান্ডে সমৃদ্ধির স্বপ্ন বাংলাদেশের
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশি ব্র্যান্ডে সমৃদ্ধির স্বপ্ন বাংলাদেশের

যমুনা ফিউচার পার্কে ডিসেম্বরের শুরুতে দেশি ব্র্যান্ড ‘রাইজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এক ফ্যাশন শো

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ জয় করেছে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের মন। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর ফ্যাশন ডিজাইনে তৈরি করা এসব পোশাক ইউরোপ-আমেরিকা থেকে কিনে আনেন অনেক বাংলাদেশিও। উন্নত মান ও হাল আমলের ফ্যাশন থাকলে বাংলাদেশি ক্রেতারাও যে চড়ামূল্য গুনতে রাজি, তা বুঝতে পারছেন পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফ্যাশন ট্রেন্ডে নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে এখন দেশেই বিপণন শুরু করছে বিশ্বের নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলোতে রপ্তানি করা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ।

চলতি মাসের শুরুতে ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর ছিল শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কের প্রথম তলায়। সেখানে দেশি ব্র্যান্ড ‘রাইজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এক ফ্যাশন শোর। এক ঘণ্টার এই ফ্যাশন শোতে ছিল দেশি পোশাকের সম্ভার। প্রথম আধঘণ্টায় ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সমন্বয়ে পাঞ্জাবি ও লং স্কার্ট পরিহিত মডেলদের। বাকি সময়টা ছিল ডেনিম, টি-শার্টসহ অন্যান্য পোশাকের। রাইজের প্রধান নির্বাহী ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম মোশাররফ। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেনের ছেলে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ বিশ্বের নামকরা ব্র্যান্ড গ্যাপ, জারা ও টমি হিলফিগারের মতো পশ্চিমা ব্র্যান্ডের জন্য চুক্তিভিত্তিতে তৈরি পোশাক সরবরাহের জন্য পরিচিত। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের এই উত্তরণে সন্তুষ্ট ফাহিম। বাংলাদেশে ফাহিম মোশাররফের রাইজ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ভেতরে সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা দেখছে জাপানভিত্তিক সংবাদপত্র ‘এশিয়ান রিভিউ’। সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ ফ্যাশন ট্রেন্ডে নিজস্ব স্বকীয়তা গড়ে তুলেছে। এই স্বকীয়তা পুঁজি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে দেশটি।’

এশিয়ান রিভিউকে ফাহিম মোশাররফ বলেছেন, ‘এখনো মানুষ কেনাকাটা করে অ্যামাজন থেকে। ফ্যাশনেবল পোশাক কেনে বিদেশ থেকে। কিন্তু আমরাই দেশে এখন এমন পোশাক তৈরি করতে পারি। তাই বিদেশের বদলে আমাদের দেশে তাকানো উচিত। এখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে।’ নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে যখন তৈরি পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন হয়, তখন দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ছিল সীমিত। তখন কারখানাগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যে, তৈরি করা পোশাক দেশের ভেতর বিক্রি করা যায় না, পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি করতে হয়। গত তিন দশকে দেশের পোশাকশিল্পের আকার যত বেড়েছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও ততটা বেড়েছে। তাই এবার দেশীয় বাজারের দিকে নজর দেওয়া শুরু করেছেন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মালিকরা। তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের ভেতরেও এখন দামি পোশাকের চাহিদা আছে। তাই কেউ কেউ স্থানীয় বাজারের জন্যও ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে গিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পোশাক অনেক বেশি দামে কিনছে। একই মানের ও ফ্যাশনের পোশাক দেশের বাজারে পাওয়া গেলে ক্রেতারা খুশিই হবে। এর মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ড গড়ে ওঠার পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে বিদেশি পোশাকের আধিপত্য কমবে। এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনেক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। গত অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে। প্রতি ৭-৮ বছরে জিডিপি মাথাপিছু দ্বিগুণ হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০০ ডলারে।  জিডিপির এই উত্তরণ মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করছে জাপানি পত্রিকাটি। ‘বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের বড় কারখানা হলে দর্জি মূলত বাংলাদেশই। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশই হয় স্থানীয় কারখানায়। গত আট বছরে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন স্থানীয় বাজারের চাহিদার দিকে নজর দিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশিদের মধ্যে পোশাক নিয়ে সচেতনতাও বাড়ছে। এশিয়ান রিভিউ বলেছে, পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোতে তৈরি পোশাক সরবরাহে পরিচিত নাম বাংলাদেশ। বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার মূল্যের পোশাক বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করে বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে আসবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্য দিয়ে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে পা রাখবে দেশটি। তাই এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিতে হবে শিল্প বিকাশে। তাহলেই পোশাকসহ নানা পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে দেশটি।