নীরব ভোট বিপ্লবের আশা ঐক্যফ্রন্টের|113598|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
নীরব ভোট বিপ্লবের আশা ঐক্যফ্রন্টের
নিজস্ব প্রতিবেদক

নীরব ভোট বিপ্লবের আশা ঐক্যফ্রন্টের

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে ভোট বিপ্লব করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ৩০ তারিখ ভোটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তন চায়। ১৬ ডিসেম্বর যেমন বিজয়ের দিন, ৩০ ডিসেম্বর হবে আরেক বিজয় দিবস।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী কার্যালয়ে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে ফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের মাঠে থাকার। কারণ হিসেবে কমিটির নেতারা বলেন, ভোটে জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাই নির্বাচনে থাকবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসবে।’

সরকার ভীত হয়ে পড়েছেÑ এমন মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল বলেন, ‘সরকার যদি মনে করত তারা জিতবে, তাহলে তো দুই নাম্বারি, তিন নাম্বারি করত না। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করত না। সরকার কতটা নার্ভাস হলে এটা করে!’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। নির্বাচনই জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করবে। ধানের শীষে ভোট দিলে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘অনেকে ভয় পান, আমরা ভয় পেলে দেশ স্বাধীন করতে পারতাম না। ১৯৯০ সালে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত করতে পারতাম না। অতএব ভোট গণনা না করা পর্যন্ত পাহারা দিন। ১৬ কোটি মানুষ, কতজনকে গ্রেপ্তার করবে তারা?’

প্রশাসন ও আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে ড. কামাল বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়, তাদেরকে মারাও সম্ভব নয়। জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাড়া পেয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে আরেকটি বিপ্লব হবে।’

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে ক্ষমতাসীনদের প্রচারে তাগিদ দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন উন্নয়নÑ এটা আইয়ুব খানের প্রত্যাখ্যাত বক্তব্য। ১৯৭১ সালে এটা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।’ আগামী দিনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে প্রশাসন দলীয়করণমুক্ত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। গণতন্ত্রের মুক্তি, রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পেতে ধানের শীষে ভোট দিন।’ গণমাধ্যমকে কারো কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যারা ’৬৯ দেখেছেন, ’৭১ দেখেছেন, তারা ২০১৮ সালের ঐক্য দেখে বিস্মিত হবেন। আচরণের কারণে বর্তমান সরকার নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা যেসব কার্যকলাপ বা ভূমিকা পালন করছেন, তার জন্য সিইসির তালিকায় নয়, মীরজাফরের তালিকায় তার নাম থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান প্রমুখ।