ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৫০১|113617|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৫০১
এস এম নুরুজ্জামান

ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৫০১

ঢাকা মহানগরীর ১৬টি আসনে আগামী রোববারের ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কেন্দ্র ও এলাকা অনুযায়ী মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অর্ধ লাখ সদস্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর ‘স্পেশাল ফোর্স’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার ১৬টি আসনে নির্বিঘ্ন নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই দিন দুপুরে কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় রাজধানীসহ সারা দেশে র‌্যাবের ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার ১৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ২১১৩টি। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এর মধ্যে ১৫০১টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬১২টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল প্যাট্রল টিমের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাব ও পুলিশের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম ও সোয়াট টিমের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, এসব আসনে ২০ হাজার পুলিশ, ২৫ হাজার আনসার, ২ হাজার র‌্যাব সদস্যসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপপরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে ৬ জনের সশস্ত্র টিম থাকবে। তাদের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ কেন্দ্রে থাকবে পুলিশের ৫ জনের টিম। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দায়িত্ব পালন করবে ৫ সদস্যবিশিষ্ট ১০০টি ভ্রাম্যমাণ টিম।

ডিএমপির তথ্যমতে, মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকার ২২টি, শ্যামপুরের ২৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর ৭১টি, ডেমরার ৪৪টি, কদমতলীর ৪৯টি, গে-ারিয়ার ২১টি, কোতোয়ালির ২০টি, সূত্রাপুরের ১৯টি, চকবাজারের ৪টি, বংশালের ৪৫টি, লালবাগের ১৪টি, মতিঝিলের ২৩টি, পল্টনের ১৭টি, শাহজাহানপুরের ২৮টি, সবুজবাগের ৪১টি, খিলগাঁওয়ের ৬৩টি, শাহবাগের ৮টি, ধানমন্ডির ১৩টি, নিউমার্কেটের ১টি, হাজারীবাগের ৬৪টি, কলাবাগানের ১০টি, মোহাম্মদপুরের ৫০টি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ১৭টি, শেরেবাংলা নগরের ১২টি, আদাবরের ৩৪টি এবং তেজগাঁও থানা এলাকার ৩৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর বলেন, প্রতিটি এলাকায় ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি প্রত্যেক ভোটারের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ের নেতৃত্বে ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।