সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুন্ন থাকবে|113782|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুন্ন থাকবে

সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুন্ন থাকবে

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে বলুন।

 

ড. মোমেন : কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সিলেটে নির্বাচনের পরিবেশ চমৎকার। বড় ধরনের কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ হয়নি। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আমি আওয়ামী লীগের হলেও পক্ষপাতদুষ্ট বাড়তি কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। তারা (বিএনপি) আমার পোস্টার ছিঁড়েছে, কার্যালয়ে হামলা করেছে, প্রচারে বাধা দিয়েছে। কিন্তু আমি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী অবাধে ও নিরাপদে প্রচার চালিয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কারণ তারা বুঝতে পারছেন, এখানে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানে কোনো বাধা আসবে না।

ভোটের দিন কি এই অবস্থা থাকবে?

ড. মোমেন : আমি তো মনে করি, অবশ্যই থাকবে। সিলেটে সম্প্রীতির একটি সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। রাজনীতিতেও এখানে হানাহানি কম। আওয়ামী লীগ-বিএনপি মিলেমিশে রাজনীতি করে। আমি চাই, সিলেটের এই অতীত ঐতিহ্য অক্ষুণœ থাকুক। অবশ্য এজন্য বিএনপিকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তারা যেন অহেতুক উসকানি না দেয়। সেটা করলে পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আর এজন্য তারাই দায়ী থাকবে।

জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

ড. মোমেন : আমি নির্বাচনী প্রচারের জন্য পাড়া-মহল্লা, গ্রামে-গঞ্জে গিয়েছি। যেখানে গিয়েছি, সেখানেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও সমর্থন পেয়েছি। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। তারা বিশ্বাস করে, নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন হবে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারবে। ভালো চাকরি পাবে। বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। তাই এবারের নির্বাচনে সারা দেশের মতো সিলেটেও নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আমি নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে প্রবল আশাবাদী।

বিজয়ী হলে সিলেটের উন্নয়নে বিশেষ কী কাজ করবেন?

ড. মোমেন : আমি গত প্রায় তিন বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং আমার বড় ভাই, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সহযোগিতা-পরামর্শে সিলেটের চলমান উন্নয়নের একজন অংশীদার হয়ে কাজ করছি। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার জন্য অনেক কাজ হয়েছে। আরো প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই টাকার কাজ হলে সিলেটের পুরো চেহারা বদলে যাবে। সিলেটের প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ চার লেন সড়কের কাজ চলছে। সিলেট মহানগরে রাস্তাঘাট, ড্রেন-কালভার্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই উন্নয়নকে ব্যবহার করেই গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেয়র হয়েছেন। অথচ এসব উন্নয়ন অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে। এর অর্থ হলোÑ সিলেটে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, সেটা বিএনপিও অস্বীকার করতে পারছে না।

আমি বিজয়ী হলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ দ্রুত শুরু করব। এ ব্যাপারে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও সিলেটে নির্বাচনী সভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরেকটি বড় কাজ আমি দ্রুততার সঙ্গে করতে চাই। সেটি হলো, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগকে উন্নত করা। অন্তত বর্তমান সময়ের অর্ধেক সময়ে যাতে এসব গন্তব্যে যাতায়াত করা যায়, আমি সে ব্যবস্থা করতে চাই। এটা হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আসবে। সিলেটে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়বে।

‘বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা হচ্ছে, অনেককে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে’Ñ বিএনপির এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

ড. মোমেন : তারা (বিএনপি) ভোটে জিততে পারবে না বুঝে মনগড়া নানা কথা হয়তো বলছে। প্রকৃত চিত্র এটা নয়। আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই প্রশাসনকে প্রভাবিত করছে না। পুলিশ বিএনপির নির্দোষ কোনো কর্মীকে গ্রেপ্তার করেনি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের নামে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

সদর উপজেলার নলকটে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে মারধরে এক প্রবাসীর নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে বলুন।

ড. মোমেন : শুনেছি বিএনপির লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে এ ব্যাপারে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। পুলিশই তদন্ত করে বের করবেÑ কীভাবে ওই লোকের মৃত্যু হয়েছে, কারা মেরেছে, কেন মেরেছে।

সবশেষে সিলেটবাসীর উদ্দেশে কিছু বলুন।

ড. মোমেন : সিলেট একটি পুণ্যভূমি। পাশাপাশি এর অসাম্প্রদায়িক চেতনাও অনেক গভীর। সব ধর্মের মানুষ এখানে যুগ যুগ ধরে শান্তিতে বসবাস করছেন। আমি চাই, ভোটকে কেন্দ্র করে সিলেটের এই সম্প্রীতিতে যেন ন্যূনতম কোন চিড় না ধরে।