মৃত্যুর সময় শিশুদের কল্যাণে রেখে গেলেন ৯২ কোটি টাকা!|113870|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪১
মৃত্যুর সময় শিশুদের কল্যাণে রেখে গেলেন ৯২ কোটি টাকা!
অনলাইন ডেস্ক

মৃত্যুর সময় শিশুদের কল্যাণে রেখে গেলেন ৯২ কোটি টাকা!

কেউ কি জানতো অ্যালান নেইমান এমন একটা কাজ করে যাবেন মৃত্যুর সময়! সারাজীবনের সঞ্চয় তিনি রেখে গেছেন শিশুদের কল্যাণে।

সমাজকর্মী নেইম্যান খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ন্যুনতম খরচে মিটাতেন নিজের চাহিদা। জামা কাপড় কিনতেন পাইকারি মার্কেট থেকে। কম খরচে যাওয়া যায় এমন জায়গায় ছুটি কাটাতে যেতেন।

কিন্তু তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে শিশুদের কল্যাণে খরচ করতে রেখে গেছেন এক কোটি ১০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ৯২ কোটি ১২ লাখ ১৮ হাজার। নেইম্যানের বন্ধুরা তার এ উদারতায় অবাক হননি। কারণ সারাজীবন তিনি মানুষের সেবায় এভাবেই নিজেকে উজার করে দিয়েছিলেন।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, এ বছর জানুয়ারিতে ৬৩ বছর বয়সে ওয়াশিংটনের সিয়াটেলে মারা যান নেইম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যটির চিলড্রেন সার্ভিসে সমাজসেবী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

নেইম্যানের সহকর্মী ও তার বন্ধু ম্যারি মোনাহান বলেন, ‘সবাই নিশ্চয় আশ্চর্য হবে, কারণ বিপুল পরিমান অর্থ সে রেখে গেল কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না।’

ক্যান্সার আক্রান্ত হবার পর তিনি ম্যারিকে জানান, মৃত্যুর পর তার যাবতীয় সব সঞ্চয় দান করে যাবেন। ম্যারি বলেন, ‘তখন তাকে আমি জানিয়েছিলাম, মানুষ তো বিশ্বাস করতে চাইবে না। আসলেই মানুষ অবাক হয়েছে।’

নেইম্যানের স্ত্রী বিবিসিকে জানান, ব্যাংকের লোভনীয় ক্যারিয়ার ফেলে গত ৩০ বছর ধরে শিশুদের জন্য কাজ করে গেছেন তার স্বামী। সমাজসেবার উদ্দেশেই শিশুদের কল্যাণে কাজ করে গেছেন তিনি। কারণ এসব শিশুদের অধিকাংশই ছিল শারীরিকভাবে অক্ষম।

তার স্ত্রী বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করতেন তার তো প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে। বরং অনেক মানুষ আছে যাদের কিছুই নাই। শিশুদেরকে তিনি আসলে মন থেকে ভালোবাসতেন, তাদের সেবা দিতেন।’

জানা যায়, উত্তরাধিকারসূত্রে নেইম্যান কিছু সম্পত্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপরেও তার সারাজীবনের উপার্জন তিনি সঞ্চয় করেন। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ছয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি এসব অর্থ ভাগ করে দিয়ে যান। সেগুলো হলো, চাইল্ডহেভেন, লিটল বিট থেরাপেটিক রাইডিং সেন্টার, মেইক-এ-উইশ আলাস্কা এন্ড ওয়াশিংটন, ওডেসা ব্রাউন চিল্ড্রেন্স ক্লিনিক, ট্রিহাউজ এবং ওয়েস্টসাইড বেবি।

ট্রি হাউজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেসিকা রোজ বলেন, ‘মৃত্যুর কয়েকমাস আগে আমি প্রথমবারের মতো নেইম্যানের নাম শুনি। তখন তিনি আমাদেরকে ৫ হাজার ডলার অর্থ সহায়তা করেছিলেন। শিশুদের হাইস্কুল পড়াশোনায় কাজে লেগেছিল এ অর্থ। আমরা এ সহায়তা পেয়ে বেশ আনন্দিত হয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা আরো বিস্মিত হলাম তিনি মৃত্যুর পর ট্রিহাউজের জন্য রেখে গেছেন নয় লাখ ডলার। সত্যিই এটা ছিল অবিশ্বাস্য।’

জেসিকা আরো বলেন, ‘আমরা সহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা রীতিমত ধাক্কা খেয়েছি তার জীবনের গল্প শুনে। কত সাধারণভাবেই না জীবনযাপন করে গেছেন অথচ সারাজীবনের সঞ্চয় তিনি দান করে গেছেন।’