সরকার ও বিরোধী দল মিলেই রাষ্ট্র চালাতে হবে|113920|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
সরকার ও বিরোধী দল মিলেই রাষ্ট্র চালাতে হবে
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

সরকার ও বিরোধী দল মিলেই রাষ্ট্র চালাতে হবে

আমি আশা করব, নতুন যে সরকার আসবে তাদের কাছে একটা অগ্রগণ্য বিষয় হবে আমাদের বহুমুখী শিক্ষার মধ্যে একটা সুসমন্বয় করা। সব মাধ্যমে একটা সাধারণ মান নিশ্চিত করে আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন মনুষ্যত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান প্রবীণ অধ্যাপক
দেশ রূপান্তর : ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা সব প্রধান রাজনৈতিক দলই ভোটের মাঠে আছে। একটা রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এই নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনকে কীভাবে দেখছেন?

আরেফিন সিদ্দিক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা দেখছি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকটিই অংশগ্রহণ করছে। এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতির জন্য স্বস্তিদায়ক এবং গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। আমরা আশা করব যে, ভোটগ্রহণের দিনটিও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অতিক্রম করব। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে বসবেন তাদের প্রতি আগাম শুভেচ্ছা।

যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসবেন তারা নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তারা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই প্রার্থীরা বিজয়ী। কিন্তু সংসদে তার দল বা জোট সরকার গঠন করবে না বিরোধী দল হিসেবে থাকবে তা নির্ভর করছে দলীয় সাফল্যের ওপর। ফলে সরকারি দলে থাকলে ‘বিজয়ী’ আর বিরোধী দলে থাকলে ‘পরাজিত’ এমন কোনো ধারণা সংসদীয় গণতন্ত্রে নেই।

সংসদীয় রাজনীতিতে সরকার গঠনকারী দল এবং বিরোধী দল উভয়েরই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি দল সরকার পরিচালনা করে আর বিরোধী দল সরকারের ওপর নজর রাখে এবং সরকার যেন কোনো ভুল না করে, সরকার যাতে জনগণের জন্য আরো কার্যকর ভূমিকা পালনে বাধ্য হয় সেদিকে জোর দেয়। এককথায় সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার গঠনকারী দল এবং বিরোধী দল উভয়ে মিলেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে। সেই চর্চা আমাদের এখানেও ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখের মতো, যা মোট ভোটারের ২২ শতাংশ। নতুন প্রজন্মের এই ভোটাররা কি প্রথাগত দলীয় আনুগত্য থেকেই ভোট দেবেন, নাকি তরুণদের অন্য কোনো বিবেচনা কাজ করবে বলে মনে করেন?

আরেফিন সিদ্দিক : তরুণ প্রজন্ম তাদের তরুণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কিন্তু আমাদের রাজনীতিকে প্রত্যক্ষ করে, সমাজকে প্রত্যক্ষ করে এবং তাদের যে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা সেটির নিরিখেই কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমার মনে হয় যে, তরুণ প্রজন্মের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার আছে, সেগুলো সম্পর্কে তারা জানছে এবং তরুণ প্রজন্ম নিজেরাই কিন্তু একটা ইশতেহার রচনা করেছে, যেটিকে তারা বলছে ‘তারুণ্যের ইশতেহার’। সে ইশতেহারের কপি তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পঠিয়েছে। ফলে তারা দলগুলোর ইশতেহারের সঙ্গে নিজেদের দাবি-দাওয়ার তুলনা করবে। আর আমি দেখেছি যে, দল বা জোটগুলোও কিন্তু তাদের ইশতেহারে তারুণ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে দুই নম্বর অঙ্গীকারেই বলেছে, ‘তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’। অর্থাৎ, তরুণদের ওপরে গুরুত্ব দিয়ে তাদের ইশতেহার রচনা করেছে। অন্য দলগুলোও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তরুণদের প্রসঙ্গটিকে নিয়ে এসেছে।

দেশ রূপান্তর : এবারের নির্বাচনের ৬৯টি আসনে ৬৮ জন নারী সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগ থেকে ২০ জন, বিএনপি থেকে ১৪ জন এবং বাকিরা অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আরেফিন সিদ্দিক : আমি যখন উপাচার্য ছিলাম তখনো দেখেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের যে ফলাফল সেখানে মেধা তালিকায় সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যে ডিনস অ্যাওয়ার্ড রয়েছে, সেখানে দেখা যায় যে প্রায় ৮০ শতাংশ, ৯০ শতাংশ ছাত্রীই সেই পুরস্কার পাচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো অনুষদে ১০০ শতাংশই ছাত্রীদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেতেও আমি দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিত্রের পাশাপাশি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এমনকি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাতেও কিন্তু আমরা নারীদের সেরা ফলাফল করতে দেখছি।

আমাদের দেশের নারীরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। তো এটা খুবই খুশির সংবাদ যে, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে তা আরো বেশি হোক, আগামীতে আরো বেশি হবে এটাই আমরা কামনা করি। যেখানে আমাদের ভোটারের সংখ্যায় নারীরা অর্ধেক, সেখানে নারীরা তো এখনো অর্ধেকে এসে পৌঁছায়নি। আমাদের এখনো বহুদূর যেতে হবে। নারীরা আমাদের সমাজের পঞ্চাশ শতাংশ, অতএব সবখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটি আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। সেটা জাতীয় সংসদে হোক, আদালতে হোক, সচিবালয়ে হোক, বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হোক, সেটা সশস্ত্র বাহিনীতে হোকÑ সর্বত্রই আমরা নারীর সমান অংশীদারিত্ব চাই।

দেশ রূপান্তর : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২০০৮-এ ২০২০ সালের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো অনেক দূরে রয়েছি।

আরেফিন সিদ্দিক : এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই আরো এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই যদি সচেষ্ট হই তাহলে হয়তো অচিরেই আমরা এমন একটা অবস্থায় আসতে পারব যখন নারীরা রাজনীতিতেও আরো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। এক্ষেত্রে আমাদের পরিবার এবং সমাজেও একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আমি আশা করি।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষিত হচ্ছে নির্বাচনের একেবারেই আগে আগে। জনগণ কি ইশতেহার বিবেচনার যথাযথ সুযোগ পাচ্ছে? আর ভোটের পর ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন হলো কি না সেই জবাবদিহিতা কি আছে?

আরেফিন সিদ্দিক : আমি মনে করি নির্বাচনী ইশতেহার যদি আরেকটু সময় নিয়ে যদি প্রকাশ করা যায়, অন্তত দেড়-দুইমাস আগেÑ তাহলে জনগণ আরেকটু সময় নিয়ে এসব পর্যালোচনা করার সুযোগ পেতে পারে। সেটা হয়তো দুই সপ্তাহ-তিন সপ্তাহ আগে বের হচ্ছে ইদানীং, সেটাকে হয়তো আরেকটু এগিয়ে আনা যেতে পারে, এটা একটা দিক।

কিন্তু এটা ঠিক যে, নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ হলো, নির্বাচন হয়ে গেল কিন্তু ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হলো সেটা সম্পর্কে আমরা সবসময় অবহিত থাকি না। আমাদের নতুন প্রজন্ম কিন্তু এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। গত কয়েকদিন আগে একদল তরুণ-তরুণী আমার বাসায় আসে। তারা বলল, স্যার আমরা একটা চিন্তা করেছি, আমরা এরমধ্যেই আমাদের ‘তারুণ্যের ইশতেহার’ রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েছি এবং আমরা নির্বাচনের পর যারা সরকার গঠন করবে যারা বিরোধী দলে যাবে তাদের কাছে যাব। তাদের প্রস্তাব হলো, সরকারি দল এবং বিরোধী দল সবাই একটা করে ‘ইশতেহার পর্যালোচনা কমিটি’ গঠন করবে এবং নির্বাচনী ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হলো সে বিষয়ে জনগণকে অবহিত করবে। তরুণদের এই উদ্যোগ এবং উদ্যম দেখে আমি বুঝতে পারি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম কতটা রাজনীতি সচেতন এবং কতটা জবাবদিহিমূলক রাজনীতি তারা চাইছে।  

দেশ রূপান্তর: এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দলের অবস্থানকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আরেফিন সিদ্দিক : আমাদের দেশের ভিত রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরে। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের তিরিশ লক্ষ মানুষ আত্মোৎসর্গ করে গেছে। এই গণহত্যা সংঘটিত করার ক্ষেত্রে হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসররা ব্যাপকাংশে দায়ী। কেননা তারাই গ্রামে-গঞ্জে, বাড়িতে বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীকে নিয়ে গিয়ে তাদের সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নিপীড়ন, লুটতরাজ চালিয়েছে। তাদের সহায়তা ও অংশগ্রহণ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। এরা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন করেছে, যুদ্ধাপরাধ করেছে। এই অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার কাজটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দশ বছর আগেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল এবং সরকার গঠন করে সেই বিচারের প্রক্রিয়া তারা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা তারা দিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস এগারো দিনে তিরিশ লক্ষ মানুষ হত্যা করার এই জঘন্য গণহত্যার বিচার করা আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, নৈতিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়িত্ব। এখন বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা যারা তাদের ইশতেহারে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত না করবে তারা তো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার সময় যে তারা বলেছিল যুদ্ধাপরাধীদের তারা সঙ্গে নেবে না আবার এখন তারা জামায়াতকে নিয়ে নির্বাচনও করছে এটা অবশ্যই জাতির সঙ্গে প্রতারণা।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচনের আগে-পরে নানা পর্যায়ে সহিংসতার যে সংস্কৃতি আমরা দেখছি এখান থেকে উত্তরণের উপায় কী?

আরেফিন সিদ্দিক : নির্বাচনের আগে, ভোটের দিনে, নির্বাচনের পরে সব ধরনের সহিংসতা দেখার অভিজ্ঞতাই আমাদের আছে। যারা মানুষের ওপর এমন নির্মম হামলা-সন্ত্রাস চালায় তারা তো অপরাধী, সন্ত্রাসী। কিন্তু এখন সময় এসেছে সন্ত্রাসী আর রাজনীতিবিদদের মধ্যে পার্থক্য করার। যারা রাজনীতি করবেন তাদের তো দেশকে ভালোবাসার কথা, মানুষকে ভালোবাসার কথা, কোনো রকম সন্ত্রাস সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার কথা না।

দেশ রূপান্তর : আপনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন, শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থার এবং শিক্ষা কাঠামোর গুরুত্বকে কীভাবে দেখেন?

আরেফিন সিদ্দিক : আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলছেন তখন আমাদের দেশের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক কুদরত-ই-খুদাকে তিনি বললেন, আমাদের এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থা সুপারিশ করুন যা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিকদের গড়ে তুলতে আমাদের দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি দায়িত্ব নিলেন, তাকে প্রধান করে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হলো। সেই শিক্ষা কমিশন অতি দ্রুত প্রতিবেদন দিল। কিন্তু ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ঘাতকরা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে সমূলে বিনষ্ট করার জন্য একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়ে দেশটাকে তছনছ করে দিল। কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন আর আলোর মুখ দেখেনি। সামরিক শাসন, স্বৈরশাসনসহ অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়েছে বাংলাদেশ কিন্তু আমাদের কোনো জাতীয় শিক্ষানীতি ছিল না। ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকার একটা জাতীয় শিক্ষানীতি অনুমোদন করে। কিন্তু দেখতে হবে এর আগের দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নীতি না থাকার কারণে যে নানারকম দুর্বলতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শেকড় গেড়ে বসেছে তা একদিনে দূর করা যায়নি, যাবে না। তবে শিক্ষাব্যবস্থার ফল পেতেও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখন পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিদ্যাকেন্দ্রিক, জ্ঞানকেন্দ্রিক করে গড়ে তুলতে হবে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমিয়ে দেওয়া, তাদের জ্ঞানার্জনের জন্য নানাভাবে উৎসাহিত করার কার্যক্রম আমাদের গ্রহণ করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার সনদকে সাধারণ শিক্ষার সমমানে আনার বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত বেশ আলোচিত হয়েছে। দেশে এই বহুমুখী শিক্ষা পদ্ধতি থেকে উত্তরণের উপায় কী? আগামী দিনের বাংলাদেশ কি পারবে সুনাগরিক তৈরিতে একটি যথাযথ শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে?

আরেফিন সিদ্দিক : আমার মনে হয়, আমাদের যে বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থাÑ স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষা, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা তারপর মাদ্রাসা, কওমি ইত্যাদির মধ্যে একটা সমন্বয় দরকার আছে। এখন সরকার যেহেতু কওমি শিক্ষাকেও সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে একটা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে, আমার মনে হয় এই নানা ধরনের শিক্ষাকে একটা সাধারণ ও যুগোপযোগী শিক্ষা কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য আমাদের আরো অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্য দিয়ে নানামুখী শিক্ষার মধ্যে যে গ্যাপগুলো আছে যে পার্থক্যগুলো আছে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করা যেতে পারে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। ফলে যে যে মাধ্যমেই শিক্ষা নিক সবাই ভালো মানুষ হচ্ছে কি না, ভালো নাগরিক হয়ে উঠছে কি না সে বিষয়টাতে আমাদের আরো জোর দিতে হবে।

আমি আশা করব, নতুন যে সরকার আসবে তাদের কাছে একটা অগ্রগণ্য বিষয় হবে আমাদের বহুমুখী শিক্ষার মধ্যে একটা সুসমন্বয় করা। সব মাধ্যমে একটা সাধারণ মান নিশ্চিত করে আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন মনুষ্যত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হয়ে ওঠে সে বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ মুনীরুদ্দিন