‘পলাতক আছি ভাই’|114011|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
‘পলাতক আছি ভাই’
ফিরোজ মিয়াজী

‘পলাতক আছি ভাই’

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে আছেন। ঢাকা থেকে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গেছেন ভোট দিতে। ফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘গ্রামে আসছি ভোট দিতে। পুলিশের ভয়ে এখন পলাতক আছি ভাই। কেউ বাসায় থাকতে পারতেছি না। আমার নামে কোনো মামলাও নাই।’

তিনি বলছিলেন, ‘ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে চ্যালেঞ্জ করছি ভাই। সে বলছে পিটায়া ভোট নিব। আমি বলছি সব নিলেও আমাদের সেন্টারে পারবেন না চ্যালেঞ্জ। আমরা ধরা খেলে আমাদের সেন্টারের সব ভোট পিটাই নিব। তাই পালিয়ে আছি, তবে গ্রামেই আছি। আমাদের কেন্দ্রে আমরা ৫০-৬০ জনের মতো অ্যাকটিভ থাকব ভোটের দিন।’

ভোটের আগের দিন গতকাল একই পরিস্থিতির কথা বলছিলেন গ্রাফিক্স ডিজাইনার খবির আহমেদও। তিনি এখন ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে অবস্থান করছেন। ফোনে কথা হয় তার সঙ্গেও। তিনি বলছিলেন, ‘আমার বড় ভাই গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। বিএনপির রাজনীতি করেন। কয়েকদিন ধরে বাসায় ঘুমাতে পারেন না। পরশু রাতে বাড়ির পেছন দিয়ে পুলিশ এসেছিল। আগেই খবর পেয়ে দ্রুত সরে যাওয়ায় বেঁচে যান। পুকুর পাড়ে বসেই রাত কাটান সেদিন।’

গত শুক্রবার বাড়িতে গেলে তাকেও এলাকার লোকজন বাড়িতে থাকতে নিষেধ করেছেন বলে জানান খবির। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুবান্ধব অনেকেই আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা আমাকে বললÑ রাতে যাতে বাড়িতে না ঘুমাই। পুলিশ ঝামেলা করতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন রাসেল আল ইমরান। ভোট দিতে এখন গ্রামের বাড়ি মাগুরাতে আছেন। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকায় শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এখন ভোটটা ঠিকঠাক মতো হলেই হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের পেট্রলবোমায় মানুষ হত্যার মামলায় মাগুরা সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী দশদিন আগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকদের নামেও বিভিন্ন মামলা থাকায় তারা গ্রেপ্তারের ভয়ে মাঠে নামেনি। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে।’

গত শুক্রবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ১০ হাজার ৩২৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য জায়গায় তাদের নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগও করেছে দলটি। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, বিএনপি নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই তারা মাঠে নেই। আর পুলিশ বলছে, ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।