বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিল বিএনপি|114013|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০
বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিল বিএনপি

বিজেপির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিল বিএনপি

বিএনপি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা চালিয়েও সফলতা পায়নি বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের বাইরে ভারতের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলাম। ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম।

ভারতীয় কূটনীতিকরা সাক্ষাৎ করতে তেমন আগ্রহী নন বলে মনে হয়েছে। সম্ভবত তারা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরাগভাজন হতে চাননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদে বিশ্বাস করি না। এ বিষয়ে আমাদের নিয়ে ভারতের ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। এটা পুরোপুরি মিথ্যা ধারণা যে আমরা ভারতবিরোধী। এটি আওয়ামী লীগের সৃষ্ট অপপ্রচারের অংশ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন ২০১২ সালে দিল্লি সফর করেন। ২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতির উন্নতি হবে। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার খুবই সফল বৈঠক হয়েছিল। তবে এরপর আর কিছু ঘটেনি। আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমরা এ বছরের আগস্টে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রামমাধবের সঙ্গে ব্যাংককে বৈঠকের দিন ঠিক করার চেষ্টা করেছি। তবে ভারতীয় পক্ষ এড়িয়ে গেছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা যে বিএনপি ভারতবিরোধী।

বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে জামায়াত ভারতের প্রতি তীব্র বিদ্বেষপূর্ণ ছিল মন্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিজেপি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল। আরএসএসও সেখানে আছে। আমাদের তাদের (জামায়াত) সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমি বুঝতে পারি না ভারত কেন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন, গুম, খুনের মতো অপকর্মগুলো দেখেও না দেখার ভান করে। সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা আছে, ভারত আওয়ামী লীগকে সহায়তা করে। আওয়ামী লীগ একটি ঘৃণিত রাজনৈতিক দল। তবে শুধু ভারতের কারণে তারা টিকে আছে। ভারতই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে কোনো নির্বাচনী প্রচার নেই। এটা সন্ত্রাসের রাজত্ব, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের। ক্ষমতাসীনরা পুলিশকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও ৩২ বছর বয়সী শিক্ষক মেয়ে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। আমি ভাবতেও পারিনি এমন পরিস্থিতি হতে পারে।’

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির ঐক্য প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত নয়। বিএনপি ইসলামি আইনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি মৌলবাদে বিশ্বাস করে না। জামায়াতের জন্য আমাদের কোনো মোহ নেই।’ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের ২২ নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য একটি কৌশলগত ঐক্য। তাদের সঙ্গে থাকার কারণে অন্তত ৫০টি আসনে সুবিধা পাওয়া যাবে। আমাদের ছাড়া তাদের মাত্র তিনটি আসন কমবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাদের মূল লক্ষ্য এখন ‘ভোটের অধিকার’ ও ‘স্বাধীনভাবে বাঁচা’, যাতে পুলিশ কাউকে তুলে নিয়ে না যায়। আর ‘জিয়া পরিবারকে ছাড়া বিএনপির কথা অকল্পনীয়’ এবং ‘খালেদা জিয়া ক্যারিশম্যাটিক নেত্রী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।